10 best place to visit in Bangladesh. বাংলাদেশে দেখার মত সেরা ১০ স্থান
ঘনবসতিপূর্ণ শহর
সাকিব আল হাসানের কলকাতায় পূজা উদ্বোধনের বিষয় নিয়ে মিজানুর রহমান আজহারী যা বললেনl
সাকিব আল হাসানের কলকাতায় পূজা উদ্বোধনের বিষয় নিয়ে মিজানুর রহমান আজহারী যা বললেন.
॥ ধর্মীয় স্বতন্ত্রতা, স্বকীয়তা ও পরিমিতিবোধ॥
.ধর্মীয় সম্প্রীতি বা সহাবস্থান মানে এই নয় যে অন্যধর্মের শিরকি কার্যকলাপে অংশগ্রহণ অথবা তাদের পূজা পর্বনের উদ্বোধন করা। ইসলামে ধর্মীয় সম্প্রীতি বলতে— আপনার অমুসলিম প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচারণ, তাদের সাথে প্রয়োজনীয় হালাল ব্যবসায়িক লেনদেন, ক্রয়বিক্রয়, সামাজিক সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ এবং বিপদে কিংবা দুর্যোগে মানবিক সহায়তা প্রদান ইত্যাদিকে বুঝায়।
.
তাছাড়া বাধ্যতামূলকভাবে অমুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাদের এফিলিয়েটেড থাকতে হয়, তাদের আলাপ ভিন্ন। যেমন: পরিদর্শন বা খোঁজখবর নিতে জনপ্রতিনিধি, নিরাপত্তার জন্য আইশৃংখলা বাহিনী, মিডিয়া কাভারেজের জন্য গণমাধ্যম কর্মীরা তাদের দায়িত্বপালন ও পেশাদারিত্বের খাতিরে উপস্থিত থাকতে পারেন, তবে অবশ্যই উপভোগের মানসে নয়। কিন্তু স্বেচ্ছায় বিধর্মীদের এসব শিরকি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ— কোন মুসলিমের জন্য কখনো বৈধ হতে পারে না।
.
ওমর আল ফারুক (রা:) বলতেন:
“তোমরা কাফির-মুশরিকদের উপাসনালয়ে তাদের উৎসবের দিনগুলোতে প্রবেশ করো না। কারণ সেই সময় তাদের ওপর আল্লাহর গযব নাযিল হতে থাকে।”
[মুসান্নাফ আব্দুররাজ্জাক]
.
মুসলিম কেউ পূজা উদ্বোধন করার মানে হলো— এক আল্লাহ ব্যতীত কল্পিত দেব দেবীর উপাসনাকে সমর্থন দেয়া। যেটা ইসলামের মৌলিক প্রাণসত্ত্বাকে নষ্ট করে। ইসলামের প্রাণসত্ত্বাকে বিসর্জন দিয়ে সুশীল সাজতে গেলে যে আপনার ইমানটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়, সেটা কি আমরা ভুলে যাচ্ছি? আসলে, সুশীলতারও একটা মাত্রা বা সীমারেখা আছে। কতটুকু করতে হয়, কতটুকু বলতে হয় এটাও জানতে হয়।
.
অমুসলিম কাউকে এনে যেমনি আমাদের কোন মসজিদ উদ্বোধন শোভনীয় নয়, ঠিক তেমনি, মুসলিম হয়ে অমুসলিমদের শিরকি প্রোগ্রাম উদ্বোধন করতে যাওয়াটাও অত্যন্ত দৃষ্টিকটু এবং সরাসরি নিজ ইমান বা বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক।
.
আমরা কি আত্মপরিচয় সংকটে দোদুল্যমান? ইসলামের স্বতন্ত্রতা বা স্বকীয়তা ধারণ করতে হীনমন্যতায় ভুগছি? ইসলাম নিয়ে গৌরববোধ করতে লজ্জা পাচ্ছি? যদি এমন হয়, তবে আফসোস আমাদের জন্য! রাব্বে কারিম যে ইসলামকে আমাদের দ্বীন বানিয়ে সন্তুষ্ট হলেন, সে ইসলামে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারলামনা।
.
ওমর আল ফারুক (রা:) বলতেন:
“আমরা এমন একটি জাতিগোস্ঠী, যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা ইসলাম দিয়ে সম্মানিত করেছেন। এখন এই ইসলামকে বাদ দিয়ে যদি অন্য কোথাও আমরা সম্মান তালাশ করি, তবে তিনি আমাদের অপমানিত করে ছাড়বেন।”
[মুসতাদরাক হাকিম]
.
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন:
“হে ঈমানদারগণ! মুমিনদের বাদ দিয়ে কাফেরদেরকে নিজেদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। তোমরা কি নিজেদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে নিজেদের পাপের সুস্পষ্ট প্রমান তুলে দিতে চাও?”
[সূরা নিসা: ১৪৪]
.
“তোমার কাছে এবং পূর্ববর্তী সমস্ত নবির কাছে এই ওহি পাঠানো হয়েছে যে, যদি তুমি শির্কে লিপ্ত হও তাহলে তোমার সকল আমল ব্যর্থ ও নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং অবশ্যই তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।”
[সূরা ঝুমার: ৬৫]
নারীদের স্বামীর নামে নামকরণ করা শক্ত গুনাহ।
নারীদের স্বামীর নামে নামকরণ করা শক্ত গুনাহ।
👉মুসলিম নারীদের অনেকেই বিয়ের পরে নিজের নাম পরিবর্তন করে স্বামীর নামকে নিজের নামের অংশ বানিয়ে ফেলে। হাল জামানায় এটি একটি ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। যেমন : একজন মেয়ের বাবার দেয়া নাম ফাতেমা। রফিক নামে একজনের সাথে বিয়ের পর তার নাম হয়ে যায় মিসেস রফিক বা ফাতেমা রফিক। ইসলামি শরিয়ার দৃষ্টিতে এটি ঠিক নয়। মুসলিম নারীদের উচিত বিয়ের পরও তার পৈতৃক নাম ঠিক রাখা। কারণ এটি তার একেবারেই নিজস্ব এখানে স্বামীর কোনো শেয়ার নেই। নামই তার বংশ পরিচয় বহন করে।
আমরা বিদেশী সংস্কৃতি বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বকে অনুসরণ করতে গিয়ে এমন অনেক বিষয় অনুকরণ করছি যেগুলোর বিষয়ে ইসলামি শরিয়ার কোনো ভিত্তি নেই বরং সেগুলো একান্তই তাদের গর্বিত বিষয়। আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির ভিত্তি হলো পবিত্র কুরআন এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হজরত মুহাম্মদ সা:-এর বাণী, কর্ম ও অনুমোদন। অনুরূপভাবে সাহাবি রা: ও তাবেয়িনদের কথা, কাজ ও মৌনসম্মতি যাকে শরিয়ার পরিভাষায় ‘সুন্নাহ’ বলা হয়। ইসলামি শরিয়ার এ দু’টি অন্যতম প্রধান উৎসের কোথাও এর অনুমোদন বা সমর্থন পাওয়া যায়নি। মহানবী সা: বা সাহাবিদের রা: জীবনাচারেও এর কোনো নজির নেই। যদি স্বামীর নামে পরিচিত হওয়া বা স্বামীর নাম নিজের নামের সাথে যুক্ত করা আভিজাত্য বা মর্যাদার ব্যাপার হতো তাহলে আমাদের প্রিয় নবী সা:-এর স্ত্রীগণ বা উম্মাহতুল মুমিনিনরাও তাদের নামের সাথে হজরত সা:-এর নাম যুক্ত করতেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো তাদের কেউই তা করেননি। বরং প্রত্যেকে নিজেদের পিতার নামেই পরিচিত ছিলেন যদিও তাদের কারো কারো পিতা কাফের ছিল। সুতরাং আমরা আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে এমন কোনো বিষয় অবলম্বন করতে পারি না যার অনুমোদন উত্তম যুগে ছিল না। হজরত আশেয়া সিদ্দিকা রা: বিয়ের পর তাঁর নাম পরিবর্তন করে আয়েশা মুহাম্মদ রাখেননি এবং তিনি তাঁর পিতা আবুবকর সিদ্দিক রা: পরিচয় অক্ষুন্ন রেখেছেন।
বাবাকর্তৃক প্রদত্ত নাম ঠিক রাখার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ ওই নামটি ব্যক্তির বংশের পরিচায়ক। কুরআন বলছে : ‘তোমরা তাদেরকে তাদের বাবার নামে ডাক’। (আল-কুরআন) এই আয়াতটি যদিও পালকপুত্রদের তাদের প্রকৃত পিতার নামে ডাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যারা বর্তমানে তাদের লালন-পালন করছেন বা ভরণ-পোষণ জোগান দিচ্ছেন তারা তাদের পিতা নন। বরং যারা তাদের জন্ম দিয়েছেন তারাই তাদের পিতা। অনুরূপভাবে মেয়েরাও তাদের পিতার পরিচয়ে পরিচিত হবেন স্বামীর পরিচয়ে নন। তা ছাড়া পালক পুত্রকে প্রকৃত পিতার নামে ডাকার নির্দেশ প্রমাণ করে স্ত্রীদেরও তাদের পিতার নামে ডাকতে হবে।
হজরত সাঈদ ইবনে যুবায়ের হজরত ইবন আব্বাস রা:-কে বলতে শুনেছেন যে, রাসূল সা: বলেছেন : ‘যে কেহ নিজেকে বাবার নাম ছাড়া অন্য নামে ডাকবে তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতা ও সমগ্র মানুষের লানত বর্ষিত হবে।’ (মুসনাদে আহমাদ) ইমাম বুখারিও রা: সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
হজরত সাদ, হজরত আবু বাকরা রা: থেকে বর্ণিত, তারা প্রত্যেকে বলেছেন : ‘আমার দু’কান শুনেছে এবং আমার অন্তর মুহাম্মদ সাা:-এর এ কথা সংরক্ষণ করেছে’, মহানবী সা: বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি জেনেশুনে নিজেকে নিজের পিতা ছাড়া অন্যের সাথে সংযুক্ত করে তার জন্য জান্নাত হারাম হয়ে যাবে’। (ইবনে মাজাহ)
হজরত আবদুল্লাহ ইবন আমর রা: থেকে বর্ণিত, তিনি মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা: থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি সা: বলেছেন, ‘যে কেউ নিজের বাবা ছাড়া অন্যের পরিচয়ে পরিচয় দেয় সে জান্নাতের গন্ধও পাবে না, যদিও জান্নাতের সুঘ্রাণ ৭০ বছর হাঁটার রাস্তার দূরত্ব থেকেও পাওয়া যাবে।’ (মুসনাদে আহমাদ)
এমন অনেক হাদিস রয়েছে যেখানে মহানবী সা: নারীদের তাদের পিতার নামে ডেকেছেন। যখন পবিত্র কুরআনের আয়াত ‘আপনি আপনার নিকটতম আত্মীয়দের সতর্ক করে দিন’। (আল-কুরআন : ২১৪) নাজিল হয় তখন মহানবী সা: তাঁর আত্মীয়দের প্রত্যেককে ডেকে ডেকে বলেছিলেন : ‘হে অমুকের ছেলে অমুক! আমি পরকালে তোমার কোনো উপকার করতে পারব না। হে অমুকের মেয়ে অমুক! আমি কিয়ামতের দিন তোমাদের কোনো কাজে আসব না।’ (আল-কাশফুল মুবদি) কিয়ামতের মাঠেও প্রত্যেককে তার বাবার নাম ধরে ডাকা হবে। হাদিসের কিতাবগুলোয় এ সংক্রান্ত অনেক হাদিস রয়েছে।
দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর রা:-এর শাসনামলের একটি বিখ্যাত ঘটনা হাদিসের বর্ণনায় এসেছে। তা হলো তিনি এক রাতে যখন প্রজাদের খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য বের হলেন তখন একজন মহিলার বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যিনি স্বামীর বিরহে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছিলেন। তিনি পরদিন সকালে মহিলাটির খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য লোক পাঠালেন। তাঁকে বলা হলো এ মহিলা হলেন অমুকের মেয়ে অমুক। তার স্বামী আল্লাহ রাস্তায় জেহাদে রয়েছেন। (সুনানে সাঈদ ইবনে মানসুর) এখানে প্রণিধানযোগ্য বিষয় হলো, মহিলাটি বিবাহিত হলেও তার পরিচয়ের ক্ষেত্রে বলা হলো অমুকের মেয়ে অমুক; একথা বলা হলো না যে, অমুতের স্ত্রী অমুক।
আরো যে সব কারণে নারীদের বাবার নামে পরিচিত হওয়া উচিত নয় তা হলো :
০১. স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে কোনো রক্ত সম্পর্ক থাকে না। কিন্তু বাবা মেয়ের রক্ত সম্পর্ক চিরদিনের।
০২. স্বামী-স্ত্রী একে অপরের সাথে মনোমালিন্য হলে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটতে পারে। তখন এই নাম থাকে না।
০৩. স্বামী মারা গেল স্ত্রী অন্য পুরুষকে বিয়ে করতে পারে। তখন এই নামের কী দশা হবে তা সহজেই অনুমেয়।
০৪. স্বামী তো বিয়ের পর নিজের নাম পরিবর্তন করে না, তাহলে নারী কেন করবে? এটি কি নারী অধিকারের লঙ্ঘন নয়? আলোচ্য প্রবন্ধে নতুন একটি বিষয়কে অত্যন্ত হ্মুদ্র পরিসরে আলোচনা করা হলো। মুসলিম সমাজের উচিত ইসলামকে পুরোপুরি অনুসরণ করা। আর যারা পরিপূর্ণ মানতে চায় তাদের উচিত এসব বিষয়ে সজাগ ও সতর্ক থাকা। যাতে করে কোনো অজুহাতেই অভিশপ্ত শয়তান কোনোভাবেই আমাদের সত্য ও সঠিক পথ ‘সিরাতুল মুস্তাকিম’ থেকে বিচ্যুত করতে না পারে।
আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক--
শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা"[তিরমিযীঃ২৬৭৪]
কেউ যদি কোন নারীকে ধর্ষণ করতে উদ্যত হয় তখন সেই নারীর উপর আত্মরক্ষা করা কি ওয়াজিব?
প্রশ্ন: কেউ যদি কোন নারীকে ধর্ষণ করতে উদ্যত হয় তখন সেই নারীর উপর আত্মরক্ষা করা কি ওয়াজিব? আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র ব্যবহার করা জায়েয হবে কি?
.
যে নারীর সাথে জোরপূর্বক যেনা করার চেষ্টা করা হচ্ছে সে নারীর উপর আত্মরক্ষা করা ফরজ। তিনি কিছুতেই দুর্বৃত্তের কাছে হার মানবেন না। এজন্য যদি দুর্বৃত্তকে হত্যা করে নিজেকে বাঁচাতে হয় সেটা করবেন। এই আত্মরক্ষা ফরজ। ধর্ষণ করতে উদ্যত ব্যক্তিকে হত্যা করার কারণে তিনি দায়ী হবেন না।
.
এর সপক্ষে দলিল হচ্ছে- ইমাম আহমাদ ও ইবনে হিব্বান কর্তৃক সংকলিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস “যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেল সে শহীদ। যে ব্যক্তি তার জীবন রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেল সে শহীদ। যে ব্যক্তি তার ধর্ম রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেল সে শহীদ। যে ব্যক্তি তার পরিবার রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেল সে শহীদ।” এ হাদিসের ব্যাখ্যায় এসেছে - “যে ব্যক্তি তার পরিবার রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেল সে শহীদ” অর্থাৎ যে ব্যক্তি তার স্ত্রী অথবা অন্য কোন নিকটাত্মীয় নারীর ইজ্জত রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেল (সে শহীদ)।
যদি স্ত্রীর ইজ্জত রক্ষা করার জন্য লড়াই করা ও ধর্ষকের হাত থেকে স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত হওয়া স্বামীর জন্য বৈধ হয় তাহলে কোন নারী নিজের ইজ্জত নিজে রক্ষা করার জন্য প্রাণান্তকর লড়াই করা; এই ধর্ষক, জালিম ও দুর্বৃত্তের হাতে নিজেকে তুলে না দিয়ে নিহত হওয়া সে নারীর জন্য বৈধ হওয়া অধিক যুক্তিপূর্ণ। কেননা তিনি যদি নিহত হন তাহলে তিনি শহীদ। যেমনিভাবে কোন নারীর স্বামী তার স্ত্রীর ইজ্জত রক্ষা করতে গিয়ে যদি নিহত হন তিনি শহীদ। শহীদি মৃত্যুর মর্যাদা অনেক বড়। আল্লাহর আনুগত্যের পথে, তাঁর পছন্দনীয় পথে মারা না গেলে এ মর্যাদা লাভ করা যায় না।
.
এর থেকে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ তাআলা এ ধরনের প্রতিরোধকে তথা কোন ব্যক্তির তার স্ত্রীর ইজ্জত রক্ষার জন্য লড়াই করাকে এবং কোন নারীর তার নিজের ইজ্জত রক্ষার জন্য লড়াই করাকে পছন্দ করেন। আর যদি কোন নারী আত্মরক্ষা করতে সমর্থ না হন, পাপিষ্ঠ ও দুশ্চরিত্র লোকটি যদি তাকে পরাস্ত করে তার সাথে যেনাতে লিপ্ত হয় তাহলে এ নারীর উপর হদ্দ (যেনার দণ্ড) অথবা এর চেয়ে লঘু কোন শাস্তি কার্যকর করা হবে না। কারণ হদ্দ কায়েম করা হয় সীমালঙ্ঘনকারী, পাপী ও দুশ্চরিত্র ব্যক্তির উপর।
.
ইবনে কুদামা আল হাম্বলীর “মুগনী” নামক গ্রন্থে এসেছে- যে নারীকে কোন পুরুষ ভোগ করতে উদ্যত্ব হয়েছে ইমাম আহমাদ এমন নারীর ব্যাপারে বলেন: আত্মরক্ষা করতে গিয়ে সে নারী যদি তাকে মেরে ফেলে...যদি সে নারী জানতে পারেন যে, এ ব্যক্তি তাকে উপভোগ করতে চাচ্ছে এবং আত্মরক্ষার্থে তিনি তাকে মেরে ফেলেন তাহলে সে নারীর উপর কোন দায় আসবে না।
এ প্রসঙ্গে ইমাম আহমাদ একটি হাদিস উল্লেখ করেন যে হাদিসটি যুহরি বর্ণনা করেছেন কাসেম বিন মুহাম্মদ থেকে তিনি উবাইদ বিন উমাইর থেকে। তাতে রয়েছে- এক ব্যক্তি হুযাইল গোত্রের কিছু লোককে মেহমান হিসেবে গ্রহণ করল। সে ব্যক্তি মেহমানদের মধ্য থেকে এক মহিলাকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করেছিল। তখন সে মহিলা তাকে পাথর ছুড়ে মারেন। যার ফলে লোকটি মারা যায়। সে মহিলার ব্যাপারে উমর (রাঃ) বলেন: আল্লাহর শপথ, কখনই পরিশোধ করা হবে না অর্থাৎ কখনোই এই নারীর পক্ষ থেকে দিয়ত (রক্তমূল্য) পরিশোধ করা হবে না। কারণ যদি সম্পদ রক্ষার্থে লড়াই করা, সম্পদ খরচ করা, ব্যবহার করা জায়েয, তাহলে কোন নারীর তার আত্মরক্ষার্থে খারাপ কাজ থেকে নিজেকে হেফাযত করতে গিয়ে, যেনা থেকে নিজেকে বাঁচাতে গিয়ে [যে গুনাহ কোন অবস্থায় বৈধ নয়] লড়াই করা সম্পদ রক্ষার লড়াই এর চেয়ে অধিক যুক্তিপূর্ণ। এইটুকু যখন সাব্যস্ত হল সুতরাং সে নারীর যদি আত্মরক্ষা করার সামর্থ্য থাকে তাহলে সেটা করা তার উপর ওয়াজিব। কেননা দুর্বৃত্তকে সুযোগ দেয়া হারাম। এক্ষেত্রে আত্মরক্ষা না করাটাই তো সুযোগ দেয়া।
[আল-মুগনি (৮/৩৩১)] ।[আল-মুফাসসাল ফি আহকামিল মারআ (৫/৪২-৪৩)]
.
ইবনুল কাইয়্যেম তাঁর “আত-তুরুকুল হুকমিয়্যা” গ্রন্থে বলেন: ১৮- (পরিচ্ছেদ) উমর (রাঃ) এর নিকট এক মহিলাকে আনা হল যে মহিলা যেনা করেছে। তিনি তাকে জিজ্ঞসাবাদ করলেন: মহিলাটি দোষ স্বীকার করল। উমর (রাঃ) তাকে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করার নির্দেশ দিলেন। তখন আলী (রাঃ) বললেন: এ নারীর কোন ওজর থাকতে পারে। এ কথা শুনে উমর (রাঃ) মহিলাটিকে বললেন: কেন তুমি যেনা করেছ? মহিলাটি বলল: আমি এক লোকের সাথে একত্রে পশু চরাতাম। তার উটপালে পানি ও দুধ ছিল। আমার উটপালে পানি ও দুধ ছিল না। আমি পিপাসার্ত হয়ে তার কাছে পানি চাইলাম। সে অস্বীকার করে বলল- আমি আমাকে ভোগ করতে দিলে সে পানি দিবে। আমি (তার প্রস্তাব) তিনবার অস্বীকার করলাম। এরপর আমি এত তীব্র পিপাসা অনুভব করলাম যেন আমার প্রাণবায়ু বেরিয়ে যাবে। তখন আমি সে যা চায় তাকে তা দিলাম। বিনিময়ে সে আমাকে পানি পান করাল। তখন আলী (রাঃ) বললেন: আল্লাহু আকবার (আল্লাহ মহান)।
.
فَمَنْ اُضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلا عَادٍ فَلا إثْمَ عَلَيْهِ ، إنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ
.
(অর্থ- অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং নাফরমানী ও সীমালঙ্ঘনকারী না হয়, তার জন্য কোন পাপ নেই। নিঃসন্দেহে আল্লাহ মহান ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু।)[সূরা বাকারা, আয়াত: ১৭৩]
(সুনানে বাইহাকী)
.
কেউ যদি বলেন: এমতাবস্থায় নিজেকে তুলে দেয়া কি জায়েয; নাকি মৃত্যু হলেও ধৈর্য রাখা ওয়াজিব? উত্তর হচ্ছে: এই নারীর ক্ষেত্রে শরয়ী হুকুম হচ্ছে- জোরপূর্বক ধর্ষণের শিকার নারীর হুকুম। যে নারীকে এই বলে হুমকি দেয়া হয়: ‘সুযোগ দিলে দে; না হয় তোকে মেরে ফেলব’। ধর্ষণের শিকার নারীর উপর হদ্দ কায়েম করা হবে না। মৃত্যু থেকে বাঁচার জন্য সে নারী নিজের ইজ্জত বিসর্জন দিতে পারে। তবে যদি কোন নারী ধৈর্যধারণ করে মৃত্যুকে বরণ করে নেয় (পিপাসা বা ক্ষুধায় খাদ্যের অভাবে)তবে সেটা তার জন্য উত্তম। কিন্তু এক্ষেত্রে ধৈর্য ধরা তার উপর ফরজ নয়।
.
কিন্তু আত্নহত্যা করা যাবেনা করলে জাহান্নামী হবে। নিজে পারলে তাকে হত্যা করবে,,,। না পারলে নিজেকে শেষ করে দেওয়া যাবে না, নিজেকে হত্যা করার শাস্তি জাহান্নাম।
[আল্লাহই ভাল জানেন]
.
উত্তর দিয়েছেন-
শাইখ মুহাম্মদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ

শেষ ভালো যার সব ভালো তার l
অন্যকে সংশোধনে আমরা যতোটা তৎপর, নিজের সংশোধনে ঠিক ততোটাই উদাসীনi
অন্যের ভুল ধরা, দোষ খোঁজা ও সমালোচনাকে আমরা রীতিমত ইবাদতের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছি। আফসোস!
.
সবসময় অন্যের পেছনে পড়ে থাকা, বর্তমান সময়ের ফিতনা গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি ভয়াবহ ফিতনা। দু:খজনক হলেও সত্য যে, এ ক্ষেত্রে নামধারী ইসলামপন্থীরাই সবচাইতে এগিয়ে। হিংসার বিষবাষ্প যে কতটা জঘন্য হতে পারে, নিকট অতীতে তা প্রত্যক্ষ করার সুযোগ আমাদের হয়েছে।
.
দিনরাত অন্যের মানহাজ উদ্ধারে ব্যস্ত আর সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্মানিত আলেমদের ছবির উপরে রেড ক্রস মেরে, উগ্রতা ফেরি করাই ওদের কাজ। প্রভুর দেখানো পথ গ্রহণ না করে ওরা নিজেদের প্রবৃত্তিকেই প্রভু বানিয়েছে। যতদিন নিজেদের মত ও চিন্তার সাথে মিলেছে ততোদিন বাহবা। আর নিজেদের মতের সামান্য বাইরে গেলে, শুরু হয় বাহারি ট্যাগ লাগানোর মহোৎসব।
.
এদের আচরণ কেমন যেন ভ্রস্ট ও অভিশপ্ত জাতিগোষ্ঠির স্বভাবের সাথে হুবহু মিলে যাচ্ছে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করছেন: “নবি হে, ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা কখনোই আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না আপনি তাদের মতাদর্শের পুরোপুরি অনুসরণ না করবেন”। (বাকারাহ: ১২০)
.
আমি যে মতের উপর আছি শুধু মাত্র এটাই হক্ব বা আমি যে দল করি সে দলই কেবল জান্নাতি আর বাকীরা সবাই গোমরাহ, বাকীরা সবাই জাহান্নামী। এজাতীয় চিন্তা পরিহার করুন। চিন্তার এই বিভ্রাট আমাদেরকে দিনকে দিন দলকানা করে তুলেছে। দলান্ধতা ও মতান্ধতা আমাদেরকে শেষ করে দিচ্ছে।
.
আল্লাহ তায়ালার জান্নাত কী এতই ছোট যে অন্যকে জাহান্নামী বানিয়ে সেটা আমাদেরকে দখল করতে হবে? আপনার ঈমান কি এতই ঠুনকো যে আরেকজনকে ভ্রষ্ট প্রমাণ করেই সেটা রক্ষা করতে হবে? তথাকথিত সহিহ আক্বিদা যাদেরকে এতটুকু সহনশীলতার সবকও দিতে পারেনি তাদের প্রতি আসলেই করুনা হয়।
.
তাই, সময় এসেছে সকল প্রান্তিকতা পরিহার করে, কুরআন সুন্নাহর আলোকে মধ্যমপন্থা অবলম্বনের। ইনশাআল্লাহ, সেদিন বেশী দূরে নয়, যে দিন সকল উগ্রতা, বাড়াবাড়ি আর প্রান্তিকতা, অস্তিত্ব সংকটে পড়ে, মধ্যমপন্থার সৌন্দর্যের কাছে অসহায় হয়ে পড়বে।
.
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করছেনঃ
“এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী উম্মত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছি যাতে করে তোমরা পুরো মানবমন্ডলীর জন্যে সাক্ষ্যদাতা হও এবং যাতে রসূল হতে পারেন তোমাদের উপর সাক্ষী।” (বাকারাহ:১৪৩)
যে তামাশায় দুনিয়া ও আখিরাত সব হারাবেন
Sk sharif khan: নেককার মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করার ফজিলত
সংক্রমণ বলতে কিছু নেই” – তবে কি রসুলুল্লাহ (সা.) এর কথা বিজ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক?
মুহম্মদ জাকির হোসেন
#ঘরেথাকুন, #সুস্থ্যথাকুন, #সুস্থ্যরাখুন, #ভুলহলেক্ষমাকরুন
সাধারণ মানুষের মধ্যে একদিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ভয় কাজ করছে আবার অপর দিকে তারা মসজিদে যেয়ে নামাজের ফজিলত প্রাপ্তির আশাও ছাড়তে পারছেন না। তারা এখন সত্যি সত্যি উভয়সংকটে আছেন। বিজ্ঞান নিশ্চিত করেই বলছে করোনা ভাইরাস একজনের দেহ হতে আরেক জনের দেহে সংক্রমিত হয়। আবার রসুলুল্লাহ (সা) এর সহীহ হাদিস বলছে সংক্রমণ বলতে কিছু নেই।
তাহলে কি হাদিসের বক্তব্য নির্ভুল নয়? একজন মু’মিন কল্পনায়ও আনতে পারেন না যে, কোন সহীহ হাদিসের বক্তব্য নির্ভুল হতে পারে না। কারণ রসুলুল্লাহ (সা) নিজ হতে কিছু বলেননি। তিনি সেই কথাই বলেছেন, সেই কাজই করেছেন যা আল্লাহ তাঁকে বলেতে বলেছেন, আল্লাহ তাঁকে করতে বলেছেন। কাজেই সহীহ হাদিসের বক্তব্য ভুল হতে পারে না।
দৃশ্যত মু’মিন মুসলমানের বিশ্বাস এবং বিজ্ঞানের নিশ্চিত তথ্য পরস্পর বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। এর কি কোন ব্যাখ্যা আছে? এক বিষয়ে দু’টি বিপরীতমুখী সিদ্ধান্ত সত্য হতে পারে না। হয় বিজ্ঞান ভুল নয় হাদিস (নাউযুবিল্লাহ)। অথবা এর কি অন্যকোন অর্থ আছে যা আমরা মিস করে যাচ্ছি? এমন কি কোন ব্যাখ্যা আছে যা দিয়ে বোঝা যাবে, হাদিস এবং বিজ্ঞান আসলে একই কথা বলছে?
চলুন আমরা এ বিষয়ে একটু গবেষণা করি। তবে প্রিয় পাঠক, মনে রাখবেন, লেখক না বৈজ্ঞানিক, না আলেম। লেখক ভূতত্ত্ব ও ব্যবসায় প্রশাসনে পড়াশুনা করেছেন এবং কাস্টমস ও ভ্যাট নিয়ে কাজ করেন। কাজেই লেখকের বোঝায় ভুল থাকতে পারে। আল্লাহই ভালো জানেন। ভুল হলে অগ্রীম ক্ষমাপ্রার্থী এবং সঠিক পথের অনুসন্ধিৎসু যাত্রী।
সহীহ বুখারি, হাদিস নং ৫৭৭৩। সংক্রমণ বলতে কিছু নেই।
সহীহ বুখারি, হাদিস নং ৫৭৭০। রোগের মধ্যে কোন সংক্রমণ নেই, সফর মাসের মধ্যে অকল্যাণের কিছু নেই এবং পেঁচার মধ্যে কোন অশুভ আলামত নেই। তখন এক বেদুঈন বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে যে উট পাল মরুভূমিতে থাকে, হরিণের মত তা সুস্থ ও সবল থাকে। উটের পালে একটি চর্মরোগওয়ালা উট মিশে সবগুলোকে চর্মরোগগ্রস্ত করে দেয়? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তবে প্রথম উটটির মধ্যে কীভাবে এ রোগ সংক্রমিত হল?
সহীহ বুখারি, হাদিস নং ৫৭০৭। রোগের কোন সংক্রমণ নেই, কুলক্ষণ বলে কিছু নেই, পেঁচা অশুভের লক্ষণ নয়, সফর মাসের কোন অশুভ নেই। কুষ্ঠ রোগী থেকে দূরে থাক, যেভাবে তুমি বাঘ থেকে দূরে থাক।
সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৫৭১৫। আমর ইবনু শারদ (রাযিঃ)-এর সানাদে তার পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাকীফ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি দলের মধ্যে জনৈক কুষ্ঠ রোগী ছিলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট (খবর) পাঠালেন যে, আমরা তোমাকে বাইআত করে নিয়েছি; তুমি ফিরে যাও।
সহীহ বুখারি, হাদিস নং ৫৭৭৪। রোগাক্রান্ত উট নীরোগ উটের সাথে মিশ্রিত করবে না।
সুনানে আত তিরমিজী, হাদিস নং ১০৬৫। যে গযব বা শাস্তি বানী ইসরাঈলের এক গোষ্ঠীর উপর এসেছিলো, তার বাকী অংশই হচ্ছে মহামারী। অতএব, কোথাও মহামারী দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থানরত থাকলে সে জায়গা হতে চলে এসো না। অপরদিকে কোন এলাকায় এটা দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থান না করলে সে জায়গাতে যেও না। [হাদিসটি সহীহ সনদে বর্ণিত]
সহীহ বুখারি, হাদিস নং ৩৪৭৩। প্লেগ একটি আযাব। যা বনী ইসরাঈলের এক সম্প্রদায়ের উপর পতিত হয়েছিল অথবা তোমাদের পূর্বে যারা ছিল। তোমরা যখন কোন স্থানে প্লেগের ছড়াছড়ি শুনতে পাও, তখন তোমরা সেখানে যেয়ো না। আর যখন প্লেগ এমন জায়গায় দেখা দেয়, যেখানে তুমি অবস্থান করছো, তখন সে স্থান হতে পালানোর লক্ষ্যে বের হয়ো না।
হাদিসগুলো পর্যালোচনায় দুটি বিষয় লক্ষণীয় হয়, যথা:
প্রথমত: সহীহ বুখারির হাদিস নম্বর ৫৭৭৩, ৫৭৭০ ও ৫৭০৭ এর মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া যায় সংক্রমণ বলে কিছু নেই এবয় রোগের কোন সংক্রমণও নেই। সারমর্ম: কোন রোগ সংক্রমক নয়।
দ্বিতীয়ত সহীহ বুখারির হাদিস নম্বর ৫৭০৭ ও ৫৭৭৪ এবং সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৫৭১৫ এর মাধ্যমে স্পষ্ট নির্দেশ হলো: কুষ্ঠ রোগী হতে দূরে থাক যেমন বাঘ থেকে দূরে থাক এবং রোগাক্রান্ত উটকে নীরোগ উটের সংস্পর্শে নিয়ো না। অর্থাৎ কতিপয় রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি বা পশু হতে সুস্থ্য ব্যক্তি ও পশুকে দূরে রাখ। আবার সুনানে আত তিরমিজী, হাদিস নং ১০৬৫ এ রসুল (সা) মহামারি প্রবণ এলাকা হতে বের হতে বা সে এলাকায় প্রবেশ করা হতে বিরত থাকতে নিষেধ করেছেন। একইভাবে সহীহ বুখারির হাদিস নম্বর ৩৪৭৩ এ প্লেগ রোগের নাম উল্লেখ করে একই নির্দেশ দিয়েছেন। বৈজ্ঞানিক তথ্য মতে, প্লেগ একটি সংক্রামক রোগ। সারমর্ম: সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণী হতে দূরে থাক যাতে তা হতে তুমি আক্রান্ত না হও।
বিষয় দুটিকে মিলাতে কষ্ট হচ্ছে? পরস্পর বিপরীতমুখী মনে হচ্ছে? চলুন দেখা যাক বিজ্ঞান কি বলে।
এখন চলুন এই আজব জীব-জড় বৈশিষ্টের বস্তুটি কিভাবে চলাচল করে সে বিষয়ে কিঞ্চিত আলোচনা করা যাক। ভাইরাস যেহেতু নিজে চলাচল করতে পারে না কাজেই তাকে অন্য কারোর ওপর ভর করে চলাচল করতে হয়। যার মাধ্যমে ভাইরাস স্থানান্তরিত হয় তাকে বাহক বলা হয়। যেমন মানুষ, অন্যকোন প্রাণী বা ব্যবহার্য কোন বস্তু।
সংক্রামক রোগ কি: যে রোগ ব্যাকটিরিয়া, ভাইরাস, পরজীবী বা ছত্রাকের মতো রোগসৃষ্টিকারী (pathogenic) অণুজীবের মাধ্যমে সৃষ্ট এবং কোন বাহকের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়িয়ে যেতে পারে সেটিই সংক্রামক রোগ। এখানেও রোগটি ছড়ানোর জন্য বাহক বাধ্যতামূলক।
ভাইরাস কি সংক্রামক: যে ভাইরাস নিজে চলতে পারে না, যে পোষক দেহের বাইরে জড় বস্তু, তার নিজে নিজে সংক্রমিত হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তবে কোন উপযুক্ত বাহক পেলে সে স্থানান্তরিত হয়ে অন্য পোষক দেহে প্রবেশ করে সেখানে রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
একইভাবে কোন রোগ যেমন প্লেগ বা করোনা ভাইরাস সৃষ্ট কোভিড-১৯ রোগ হিসাবে নিজে ছোঁয়াচে বা সংক্রামক নয়। আসলে রোগের নিজের সংক্রামক হওয়ার কোন সুযোগ নেই। রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস যখন এক পোষক হতে বাহকের মাধ্যমে অন্য পোষকের দেহে স্থানান্তরিত হয় তখন ভাইরাসটি নতুন পোষকের দেহে রোগ সৃষ্টি করে।
সংক্রমণ বলতে কিছু নেই -কোন রোগ বা ভাইরাস নিজে নিজে এক জনের দেহ হতে অন্য জনের নিকট স্থানান্তরিত হয় না। কোন না কোন বাহক লাগে। তাই বাহক বিহীন অবস্থায় কোন সংক্রমণ নেই।
প্লেগ বা অন্য যেকোন মহামারী সৃষ্টিকারী অণুজীব যাতে নতুন স্থানে ছড়িয়ে পড়তে না পারে তার জন্য মহামারী আক্রান্ত স্থান হতে কাউকে বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। একই ভাবে সুস্থ্য কেউ যাতে মহামারী আক্রান্ত স্থানে গমন করে নিজে আক্রান্ত না হতে পারেন তার জন্য তাকে আক্রান্ত স্থানে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
হাদিস কোন বিজ্ঞানের গ্রন্থ নয়। হাদিসকে কখনো কখনো বিজ্ঞানের আলোকে ব্যাখ্যা করা যাবে। কখনো সেটা সম্ভব নাও হতে পারে। যেখানে সেটি পারা যাবে না, বুঝতে হবে, বিজ্ঞানকে আরো এগুতে হবে, সে এখনো অসম্পূর্ণ আছে। বিজ্ঞানে শেষ বা চূড়ান্ত বলে কিছু নেই। যেমন ধরুন, প্রথম দিকে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাস ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপে বিস্তারলাভ করে না। এখন বলা হচ্ছে সেটি সঠিক নয়। আবার কয়েকদিন আগেই বলা হতো, করোনা ভাইরাস এতোই ভারী যে, রোগী হাঁচি দিলে সেই ভাইরাস ১ মিটার দূরে যাওয়ার আগেই ধপাস করে মাটিতে পরে। দুর্ভাগ্য, এটিও হয়তো ঠিক নয়। আমেরিকার বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যেই বলতে শুরু করেছেন, করোনা ভাইরাস ৩ঘণ্টা পর্যন্ত বাতাসে ভাসতে পারে! ২ সপ্তাহ পরে আমরা হয়তো এ সম্পর্কে ভিন্ন রকমের তথ্য জানবো।
সহীহ বুখারি, হাদিস নং ৯০১। ইবনু ‘আববাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি তাঁর মুয়ায্যিনকে এক প্রবল বর্ষণের দিনে বললেন, যখন তুমি (আযানে) ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ বলবে, তখন ‘হাইয়া আলাস্ সালাহ্’বলবে না, বলবে, ‘‘সাল্লু ফী বুয়ুতিকুম’(তোমরা নিজ নিজ বাসগৃহে সালাত আদায় কর)। তা লোকেরা অপছন্দ করল। তখন তিনি বললেনঃ আমার চেয়ে উত্তম ব্যক্তিই (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) তা করেছেন। জুমু’আহ নিঃসন্দেহে জরুরি। আমি অপছন্দ করি তোমাদেরকে মাটি ও কাঁদার মধ্য দিয়ে যাতায়াত করার অসুবিধায় ফেলতে।
সহীহ বুখারি, হাদিস নং ৬৩২। নাফি (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রচন্ড এক শীতের রাতে ইবনু ‘উমার (রা.) যাজনান নামক স্থানে আযান দিলেন। অতঃপর তিনি ঘোষণা করলেনঃ তোমরা আবাস স্থলেই সালাত আদায় করে নাও। পরে তিনি আমাদের জানালেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরের অবস্থায় বৃষ্টি অথবা তীব্র শীতের রাতে মুয়ায্যিনকে আযান দিতে বললেন এবং সাথে সাথে এ কথাও ঘোষণা করতে বললেন যে, তোমরা নিজ বাসস্থলে সালাত আদায় কর।
মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় অবশ্যই অনেক নিয়ামতের। তা হতে বঞ্চিত হওয়া বড়ই কষ্টের। কিন্তু এমন মহামারীর পরিস্থিতিতে বাসায় নামাজ পড়ার জন্য যথেষ্ট যুক্তি কি বর্ণিত হাদিসগুলোতে নেই? অনেকেই আবেগ প্রবণ হয়ে বলছেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর। সেখান থেকে করোনা ছড়াবে না। তারা জেনে রাখুন, আল্লাহ এমন কোন প্রতিশ্রুতি দেননি। বরং মসজিদেও মশা কামড়ায়। পবিত্র ক্বাবায়ও দূর্ঘটনায় হাজি মারা যান।
আল জাজিরা টিভির বিগত ১৮ মার্চের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, সেদিন পর্যন্ত মালয়েশিয়াতে যে ৬৭৩ জন লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তার দুই-তৃতীয়াংশ কুয়ালালামপুরের নিকটবর্তী এক মসজিদে আগত তাবলিগ জামাত হতে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
মূল বিষয় হলো জনসমাগম। সেটি মসজিদেই হোক আর খেলার মাঠ বা রাজনৈতিক ময়দানেই হোক। করোনায় আক্রান্ত কারো স্পর্শে আসলেই তাতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।
আলেমগণ যদি সিদ্ধান্ত নেন যে, মসজিদে স্বাভাবিক জামাত হবে, আর হাজার হাজার মানুষ মসজিদে নামায পড়তে যায়। তাদের একজনের যদি করোনা থাকে তাহলে লক্ষ লোকে ছড়াতে সাত দিনের বেশি লাগবে না। আর যদি জানা যায়, মসজিদ হতে লক্ষ লোকে করোনা ছড়িয়েছে, তাহলে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে আমাদের জবাব দিহি করতে হতে পারে। মসজিদ হতে সংক্রমিত হয়ে যদি মানুষ মারা যায়, আর সংখ্যাটি যদি অনেক হয়, ভবিষ্যত প্রজন্ম বলবে, যে মসজিদ হতে ব্যাপকভাবে করোনা ছড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ মারা যায়, সে মসজিদে যেয়ে কী হবে। তারা মসজিদ বিমুখ হয়ে পড়তে পারে। অতীতে গীর্জা নিয়ে এমন হয়েছে। খৃষ্টানদের গীর্জা বিমুখ হওয়ার পেছনে গীর্জার পাদ্রীদের এমন অনেক ভুল সিদ্ধান্ত দায়ী। তাই, বাংলাদেশের আলেমদের প্রতি সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনুরোধ রইল।
করোনা ভাইরাসকে হালকাভাবে নিবেন না, আবেগ দিয়েও দেখবেন না।
নেককার মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করার ফজিলত
যেসব আমল করলে আল্লাহ খুব দ্রুত তার দোয়া কবুল করে থাকেন
পবিত্রতা অর্জন: পবিত্রতা অর্জনের পর দোয়া করলে আল্লাহতায়ালা সেই দোয়া কবুল করবেন।
বিনয়ের সঙ্গে দোয়া করা: বিনয়ের সঙ্গে দু’হাত তুলে দোয়া করা। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহতায়ালার নিকট হাত তুলে হাতের তালু সামনে রেখে দোয়া কর। হাত উল্টো করো না। দোয়ার শেষে উত্তোলিত হাত মুখমন্ডলে বুলিয়ে নাও।’ -আবু দাউদ
মিনতিভরা কন্ঠে দোয়া করা: মিনতি ও নম্রতার সঙ্গে দোয়া করলে তা ইবাদত হিসেবে গন্য হয়। রাসূলে মকবুল (সা.) বলেছেন, ‘দোয়া সব ইবাদতের মজ্জা ও সারাংশ।’ দাসত্বের পরিচয় প্রদানই ইবাদতের উদ্দেশ্য। বান্দার নিজের দীনতা ও অক্ষমতা বুঝতে পারা এবং আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও অপার মহিমা উপলব্দি করার মধ্যেই দাসত্বের প্রকাশ ঘটে। দোয়ার মাধ্যমে এ দু’টি বিষয়ের পরিচয় পাওয়া যায়। অর্থাৎ নিজের অক্ষমতা ও অসহায়ত্ব এবং আল্লাহর অপ্রতিহত ক্ষমতা, অপার মহিমা ও প্রতাপ অন্তরে স্থান পাওয়া আবশ্যক। দীনতা ও নম্রতা দোয়ার মধ্যে যত অধিক হবে ততই মঙ্গল।
দু’হাত তুলে দোয়া করা: বিনয়, নম্রতা ও দাসত্ব প্রকাশ করার জন্য দোয়ার সময় দু’হাতের তালু আসমানের দিকে রাখতে হবে এবং হাত সম্পূর্ণ সম্প্রসারিত করে দু’হাতের মধ্যে ২/১ আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁক রাখতে হবে। হাত কচলানো, রশি পাকানোর মতো হাতের তালু ঘষাঘষি করা দোয়ার আদবের খেলাপ। মনে রাখবেন, আপনি শাহানশাহেরর দরবারে হাত তুলেছেন, তাই এখানে কোনো ধরনের অমনোযোগিতা কাম্য নয়। এছাড়া দোয়া শেষে দু’হাত তুলে দোয়া করে দোয়া শেষে হাত দু’টি মুখমন্ডলে মুছে নিবে। হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে, ‘যে হাত আল্লাহর দরবারে উত্তোলিত হয়, তা একেবারে শূণ্য অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে তিনি লজ্জাবোধ করেন।’
আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ শরীফসহ দোয়া করা : আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ শরীফসহ দোয়া করা। আল্লাহর প্রশংসা যেমন, ‘আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামিন’ দোয়ার শুরুতে বলা। এছাড়া ইসমে আজমের সহিত দোয়া করা উত্তম। হজরত আসমা বিনতে ইয়াজিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ইসমে আজম এই আয়াতদ্বয়ে রয়েছে-
১. ‘ওয়া ইলাহুকুম ইলাহু ওয়াহিদুন লা ইলাহা ইল্লা হুয়ার রাহমানুর রাহিম।’ -সূরা বাক্বারা : ১৬৩
২. ‘আলীফ লাম মীম। আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম।’ -সূরা আল ইমরান : ১
হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদিন রাসূলে কারিম (সা.)-এর নিকট বসেছিলাম। একজন লোক সেখানে নামাজ পড়ছিল। সে তার দোয়ার মধ্যে আরজ করল, হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আমার প্রয়োজন প্রার্থনা করছি এই ওসিলায় যে, প্রশংসা ও গুনকীর্তণ আপনার জন্যই উপযুক্ত। আপনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। আপনি পরম দয়ালু ও অসীম অনুগ্রহদাতা এবং পৃথিবী ও আকাশ মন্ডলীর স্রষ্টা। আমি আপনার কাছেই আপনার অনুগ্রহ চাই। ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যু! ইয়া জালজালালী ওয়াল ইকরাম! রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, এ বান্দা আল্লাহর ইসমে আজমের ওসিলায় দোয়া করেছে। এ ওসিলায় আল্লাহর কাছে দোয়া করলে দোয়া কবুল হয় এবং আল্লাহর কাছে কোনো কিছু চাইলে, আল্লাহ তা দান করেন। -তিরমিজি
হজরত ফুজালা ইবনে উবায়দা (রা.) বর্ননা করেন, রাসূলে কারিম (সা.) এক ব্যক্তিকে দোয়া করতে শুনলেন। সে দোয়ায় আল্লাহপাকের প্রশংসা করল না এবং রাসূল (সা.)-এর ওপর দরুদও পাঠ করল না। এতে রাসূলে আকরাম (সা.) বললেন, লোকটি তড়িঘড়ি করে দোয়া করেছে। তিনি লোকটিকে ডেকে আনলেন এবং তাকে অথবা উপস্থিত লোকদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘যখন তোমাদের কেউ নামাজ পড়ে তখন দোয়া করার পূর্বে তার উচিত আল্লাহতায়ালার প্রশংসা করে নেয়া ও রাসূলের প্রতি দরুদ পাঠ করা। এরপর যা ইচ্ছা তা চাওয়া। -তিরমিজি ও আবু দাউদ
এক হাদিসে এসেছে হজরত রাসূলে মাকবুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দোয়া করার পূর্বে দরুদ শরীফ পড়ে, তার দোয়া অবশ্যই কবুল হয়। মহান আল্লাহতায়ালা অসীম দয়ালু; দোয়ার কিয়দাংশ কবুল করে অপর অংশ কবুল না করা তার স্বভাব নয়। এই হাদিসের সারমর্ম এই যে, দরুদ তিনি অবশ্যই কবুল করে থাকেন, সুতরাং তিনি দরুদ কবুল করে দোয়ার অবশিষ্টাংশ অর্থাৎ প্রার্থনীয় বিষয় অগ্রাহ্য করেন না। শেষ পর্যন্ত উভয় অংশই কবুল করেন।
হজরত আবু সোলায়মান দারানী (রহ.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কোনো দোয়া করে, তার উচিত, প্রথমে দরুদ পড়া এবং দরুদ পড়ে দোয়া শেষ করা। কেননা আল্লাহ উভয় দরুদ কবুল করেন। -কিমিয়ায়ে সাআদাত









