ads

10 best place to visit in Bangladesh. বাংলাদেশে দেখার মত সেরা ১০ স্থান

10 best places to visit in Bangladesh Bangladesh is a beautiful country with a rich cultural heritage and stunning landscapes. Here are ten of the best places to visit in Bangladesh: Sundarbans Mangrove Forest: The Sundarbans is the largest mangrove forest in the world and a UNESCO World Heritage Site. It is home to the Bengal tiger and a wide variety of flora and fauna. Cox's Bazar: Known for having the longest natural sea beach in the world, Cox's Bazar is a popular tourist destination. It offers beautiful sandy beaches, serene views of the Bay of Bengal, and vibrant local markets. Srimangal: Often called the "Tea Capital of Bangladesh," Srimangal is famous for its lush tea gardens and scenic beauty. It's an excellent place for nature lovers and those seeking tranquility. Sundarbans' Rocket: A traditional paddlewheel steamer, known as the "Rocket," takes tourists on a river journey through the heart of Bangladesh, offering a glimpse of the country's rural life and landscapes. Rangamati: Located amidst the Chittagong Hill Tracts, Rangamati is a picturesque destination with its serene Kaptai Lake, tribal culture, and hilly terrains. Sylhet: Known for its rolling tea gardens, Sylhet is also home to the stunning Ratargul Swamp Forest, the largest freshwater swamp forest in Bangladesh. Saint Martin's Island: Located in the Bay of Bengal, Saint Martin's is the only coral island in Bangladesh. It's a peaceful and beautiful spot for beach lovers and underwater enthusiasts. Paharpur Bihar: A UNESCO World Heritage Site, Paharpur Bihar is an ancient Buddhist monastery dating back to the 8th century. It's an essential historical and archaeological site in Bangladesh. Lalbagh Fort: Situated in Dhaka, Lalbagh Fort is an impressive 17th-century Mughal architecture, surrounded by gardens and reflecting a rich history. Sonargaon: Once an ancient capital, Sonargaon now serves as a historical site with several well-preserved monuments and a folk art museum showcasing traditional Bangladeshi culture. Remember that Bangladesh is a diverse country with many more beautiful places to explore. Ensure to check the latest travel advisories and conditions before planning your trip.
বাংলাদেশে দেখার জন্য সেরা ১০টি স্থান বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং অত্যাশ্চর্য প্রাকৃতিক দৃশ্যের একটি সুন্দর দেশ। এখানে বাংলাদেশের সেরা দশটি দর্শনীয় স্থান রয়েছে: সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট: সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন এবং ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। এটি বেঙ্গল টাইগার এবং বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল। কক্সবাজার: বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকতের জন্য পরিচিত, কক্সবাজার একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। এটি সুন্দর বালুকাময় সৈকত, বঙ্গোপসাগরের নির্মল দৃশ্য এবং প্রাণবন্ত স্থানীয় বাজারগুলি অফার করে। শ্রীমঙ্গল: প্রায়ই "বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী" বলা হয়, শ্রীমঙ্গল তার রসালো চা বাগান এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। এটি প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য এবং যারা প্রশান্তি খুঁজছেন তাদের জন্য একটি চমৎকার জায়গা। সুন্দরবনের রকেট: একটি ঐতিহ্যবাহী প্যাডেলহুইল স্টিমার, যা "রকেট" নামে পরিচিত, পর্যটকদের বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে নদী ভ্রমণে নিয়ে যায়, যা দেশের গ্রামীণ জীবন এবং প্রাকৃতিক দৃশ্যের একটি আভাস দেয়। রাঙামাটি: পার্বত্য চট্টগ্রামের মাঝে অবস্থিত রাঙ্গামাটি একটি মনোরম গন্তব্য যেখানে এর নির্মল কাপ্তাই হ্রদ, উপজাতীয় সংস্কৃতি এবং পাহাড়ি অঞ্চল রয়েছে। সিলেট: তার ঘূর্ণায়মান চা বাগানের জন্য পরিচিত, সিলেট অত্যাশ্চর্য রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্টের আবাসস্থল, যা বাংলাদেশের বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি। সেন্টমার্টিন দ্বীপ: বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। এটি সমুদ্র সৈকত প্রেমীদের এবং জলের নীচে উত্সাহীদের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ এবং সুন্দর স্থান। পাহাড়পুর বিহার: ইউনেস্কোর একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান, পাহাড়পুর বিহার হল একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার যা 8ম শতাব্দীর। এটি বাংলাদেশের একটি অপরিহার্য ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। লালবাগ কেল্লা: ঢাকায় অবস্থিত, লালবাগ কেল্লা 17 শতকের একটি চিত্তাকর্ষক মুঘল স্থাপত্য, বাগান দ্বারা বেষ্টিত এবং একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস প্রতিফলিত করে। সোনারগাঁও: এক সময়ের প্রাচীন রাজধানী, সোনারগাঁও এখন একটি ঐতিহাসিক স্থান হিসাবে কাজ করে যেখানে বেশ কিছু সু-সংরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভ এবং ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশী সংস্কৃতি প্রদর্শনকারী একটি লোকশিল্প জাদুঘর রয়েছে। মনে রাখবেন বাংলাদেশ একটি বৈচিত্র্যময় দেশ যেখানে আরও অনেক সুন্দর জায়গা ঘুরে দেখার মতো। আপনার ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে সর্বশেষ ভ্রমণ পরামর্শ এবং শর্তগুলি পরীক্ষা করা নিশ্চিত করুন।

ঘনবসতিপূর্ণ শহর

ঢাকা দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত একটি দেশ, রাজধানী এবং বৃহত্তম শহর বাংলাদেশ। ২0 মিলিয়ন লোকের জনসংখ্যার সঙ্গে, এটি বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলির মধ্যে একটি। ঢাকা বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত এবং একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে যা হাজার হাজার বছর ধরে ফিরে আসে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে, ঢাকা দেশের উন্নয়নের এবং বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি আধুনিক অবকাঠামো এবং ঐতিহ্যবাহী উপাদানগুলির মিশ্রণের সাথে একটি বস্তুর মহানগর। শহরটি তার স্পন্দনশীল রাস্তার জীবন, বস্তুর বাজার এবং বিভিন্ন স্থাপত্য দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। ঢালু দুর্গ, আহসান মঞ্জিল (পিঙ্ক প্রাসাদ), ধেশিশওয়ারী মন্দির ও জাতীয় সংসদ হাউস সহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ল্যান্ডমসের বাড়ি। শহরটি তার বিশ্ববিদ্যালয়ের, যাদুঘর, আর্ট গ্যালারি, এবং থিয়েটার রয়েছে, তার সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দৃশ্যের অবদান রয়েছে। অনেক অন্যান্য প্রধান শহরগুলির মতো, ঢাকা ট্রাফিক জামিন, বায়ু দূষণ, এবং অবকাঠামো উন্নয়ন হিসাবে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। যাইহোক, এই বিষয়গুলি মোকাবেলা করার জন্য প্রচেষ্টা করা হচ্ছে এবং তার বাসিন্দাদের জন্য সর্বনিম্ন মানের উন্নতির জন্য তৈরি করা হচ্ছে। ঢাকা তার বিভিন্ন রন্ধনপ্রণালী জন্য সুপরিচিত স্বর্ণের ঐতিহ্যগত খাবার এবং আন্তর্জাতিক রন্ধনপ্রণালী বিস্তৃত। স্থানীয় রাস্তার খাদ্য দৃশ্য উভয় স্থানীয় এবং পর্যটকদের মধ্যে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। সামগ্রিকভাবে, ঢাকা একটি স্পন্দনশীল এবং গতিশীল শহর যা বাংলাদেশে পাওয়া ঐতিহ্য এবং আধুনিকতা অনন্য মিশ্রন প্রতিফলিত করে।

সাকিব আল হাসানের কলকাতায় পূজা উদ্বোধনের বিষয় নিয়ে মিজানুর রহমান আজহারী যা বললেনl

সাকিব আল হাসানের কলকাতায় পূজা উদ্বোধনের বিষয় নিয়ে মিজানুর রহমান আজহারী যা বললেন.

॥ ধর্মীয় স্বতন্ত্রতা, স্বকীয়তা ও পরিমিতিবোধ॥

.
ধর্মীয় সম্প্রীতি বা সহাবস্থান মানে এই নয় যে অন্যধর্মের শিরকি কার্যকলাপে অংশগ্রহণ অথবা তাদের পূজা পর্বনের উদ্বোধন করা। ইসলামে ধর্মীয় সম্প্রীতি বলতে— আপনার অমুসলিম প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচারণ, তাদের সাথে প্রয়োজনীয় হালাল ব্যবসায়িক লেনদেন, ক্রয়বিক্রয়, সামাজিক সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ এবং বিপদে কিংবা দুর্যোগে মানবিক সহায়তা প্রদান ইত্যাদিকে বুঝায়।
.
তাছাড়া বাধ্যতামূলকভাবে অমুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাদের এফিলিয়েটেড থাকতে হয়, তাদের আলাপ ভিন্ন। যেমন: পরিদর্শন বা খোঁজখবর নিতে জনপ্রতিনিধি, নিরাপত্তার জন্য আইশৃংখলা বাহিনী, মিডিয়া কাভারেজের জন্য গণমাধ্যম কর্মীরা তাদের দায়িত্বপালন ও পেশাদারিত্বের খাতিরে উপস্থিত থাকতে পারেন, তবে অবশ্যই উপভোগের মানসে নয়। কিন্তু স্বেচ্ছায় বিধর্মীদের এসব শিরকি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ— কোন মুসলিমের জন্য কখনো বৈধ হতে পারে না।
.
ওমর আল ফারুক (রা:) বলতেন:
“তোমরা কাফির-মুশরিকদের উপাসনালয়ে তাদের উৎসবের দিনগুলোতে প্রবেশ করো না। কারণ সেই সময় তাদের ওপর আল্লাহর গযব নাযিল হতে থাকে।”
[মুসান্নাফ আব্দুররাজ্জাক]
.
মুসলিম কেউ পূজা উদ্বোধন করার মানে হলো— এক আল্লাহ ব্যতীত কল্পিত দেব দেবীর উপাসনাকে সমর্থন দেয়া। যেটা ইসলামের মৌলিক প্রাণসত্ত্বাকে নষ্ট করে। ইসলামের প্রাণসত্ত্বাকে বিসর্জন দিয়ে সুশীল সাজতে গেলে যে আপনার ইমানটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়, সেটা কি আমরা ভুলে যাচ্ছি? আসলে, সুশীলতারও একটা মাত্রা বা সীমারেখা আছে। কতটুকু করতে হয়, কতটুকু বলতে হয় এটাও জানতে হয়।
.
অমুসলিম কাউকে এনে যেমনি আমাদের কোন মসজিদ উদ্বোধন শোভনীয় নয়, ঠিক তেমনি, মুসলিম হয়ে অমুসলিমদের শিরকি প্রোগ্রাম উদ্বোধন করতে যাওয়াটাও অত্যন্ত দৃষ্টিকটু এবং সরাসরি নিজ ইমান বা বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক।
.
আমরা কি আত্মপরিচয় সংকটে দোদুল্যমান? ইসলামের স্বতন্ত্রতা বা স্বকীয়তা ধারণ করতে হীনমন্যতায় ভুগছি? ইসলাম নিয়ে গৌরববোধ করতে লজ্জা পাচ্ছি? যদি এমন হয়, তবে আফসোস আমাদের জন্য! রাব্বে কারিম যে ইসলামকে আমাদের দ্বীন বানিয়ে সন্তুষ্ট হলেন, সে ইসলামে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারলামনা।
.
ওমর আল ফারুক (রা:) বলতেন:
“আমরা এমন একটি জাতিগোস্ঠী, যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা ইসলাম দিয়ে সম্মানিত করেছেন। এখন এই ইসলামকে বাদ দিয়ে যদি অন্য কোথাও আমরা সম্মান তালাশ করি, তবে তিনি আমাদের অপমানিত করে ছাড়বেন।”
[মুসতাদরাক হাকিম]
.
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন:
“হে ঈমানদারগণ! মুমিনদের বাদ দিয়ে কাফেরদেরকে নিজেদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। তোমরা কি নিজেদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে নিজেদের পাপের সুস্পষ্ট প্রমান তুলে দিতে চাও?”
[সূরা নিসা: ১৪৪]
.
“তোমার কাছে এবং পূর্ববর্তী সমস্ত নবির কাছে এই ওহি পাঠানো হয়েছে যে, যদি তুমি শির্‌কে লিপ্ত হও তাহলে তোমার সকল আমল ব্যর্থ ও নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং অবশ্যই তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।”
[সূরা ঝুমার: ৬৫]


নারীদের স্বামীর নামে নামকরণ করা শক্ত গুনাহ।

               নারীদের স্বামীর নামে নামকরণ করা শক্ত গুনাহ।

👉মুসলিম নারীদের অনেকেই বিয়ের পরে নিজের নাম পরিবর্তন করে স্বামীর নামকে নিজের নামের অংশ বানিয়ে ফেলে। হাল জামানায় এটি একটি ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। যেমন : একজন মেয়ের বাবার দেয়া নাম ফাতেমা। রফিক নামে একজনের সাথে বিয়ের পর তার নাম হয়ে যায় মিসেস রফিক বা ফাতেমা রফিক। ইসলামি শরিয়ার দৃষ্টিতে এটি ঠিক নয়। মুসলিম নারীদের উচিত বিয়ের পরও তার পৈতৃক নাম ঠিক রাখা। কারণ এটি তার একেবারেই নিজস্ব এখানে স্বামীর কোনো শেয়ার নেই। নামই তার বংশ পরিচয় বহন করে।

আমরা বিদেশী সংস্কৃতি বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বকে অনুসরণ করতে গিয়ে এমন অনেক বিষয় অনুকরণ করছি যেগুলোর বিষয়ে ইসলামি শরিয়ার কোনো ভিত্তি নেই বরং সেগুলো একান্তই তাদের গর্বিত বিষয়। আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির ভিত্তি হলো পবিত্র কুরআন এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হজরত মুহাম্মদ সা:-এর বাণী, কর্ম ও অনুমোদন। অনুরূপভাবে সাহাবি রা: ও তাবেয়িনদের কথা, কাজ ও মৌনসম্মতি যাকে শরিয়ার পরিভাষায় ‘সুন্নাহ’ বলা হয়। ইসলামি শরিয়ার এ দু’টি অন্যতম প্রধান উৎসের কোথাও এর অনুমোদন বা সমর্থন পাওয়া যায়নি। মহানবী সা: বা সাহাবিদের রা: জীবনাচারেও এর কোনো নজির নেই। যদি স্বামীর নামে পরিচিত হওয়া বা স্বামীর নাম নিজের নামের সাথে যুক্ত করা আভিজাত্য বা মর্যাদার ব্যাপার হতো তাহলে আমাদের প্রিয় নবী সা:-এর স্ত্রীগণ বা উম্মাহতুল মুমিনিনরাও তাদের নামের সাথে হজরত সা:-এর নাম যুক্ত করতেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো তাদের কেউই তা করেননি। বরং প্রত্যেকে নিজেদের পিতার নামেই পরিচিত ছিলেন যদিও তাদের কারো কারো পিতা কাফের ছিল। সুতরাং আমরা আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে এমন কোনো বিষয় অবলম্বন করতে পারি না যার অনুমোদন উত্তম যুগে ছিল না। হজরত আশেয়া সিদ্দিকা রা: বিয়ের পর তাঁর নাম পরিবর্তন করে আয়েশা মুহাম্মদ রাখেননি এবং তিনি তাঁর পিতা আবুবকর সিদ্দিক রা: পরিচয় অক্ষুন্ন রেখেছেন।

বাবাকর্তৃক প্রদত্ত নাম ঠিক রাখার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ ওই নামটি ব্যক্তির বংশের পরিচায়ক। কুরআন বলছে : ‘তোমরা তাদেরকে তাদের বাবার নামে ডাক’। (আল-কুরআন) এই আয়াতটি যদিও পালকপুত্রদের তাদের প্রকৃত পিতার নামে ডাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যারা বর্তমানে তাদের লালন-পালন করছেন বা ভরণ-পোষণ জোগান দিচ্ছেন তারা তাদের পিতা নন। বরং যারা তাদের জন্ম দিয়েছেন তারাই তাদের পিতা। অনুরূপভাবে মেয়েরাও তাদের পিতার পরিচয়ে পরিচিত হবেন স্বামীর পরিচয়ে নন। তা ছাড়া পালক পুত্রকে প্রকৃত পিতার নামে ডাকার নির্দেশ প্রমাণ করে স্ত্রীদেরও তাদের পিতার নামে ডাকতে হবে।

হজরত সাঈদ ইবনে যুবায়ের হজরত ইবন আব্বাস রা:-কে বলতে শুনেছেন যে, রাসূল সা: বলেছেন : ‘যে কেহ নিজেকে বাবার নাম ছাড়া অন্য নামে ডাকবে তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতা ও সমগ্র মানুষের লানত বর্ষিত হবে।’ (মুসনাদে আহমাদ) ইমাম বুখারিও রা: সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

হজরত সাদ, হজরত আবু বাকরা রা: থেকে বর্ণিত, তারা প্রত্যেকে বলেছেন : ‘আমার দু’কান শুনেছে এবং আমার অন্তর মুহাম্মদ সাা:-এর এ কথা সংরক্ষণ করেছে’, মহানবী সা: বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি জেনেশুনে নিজেকে নিজের পিতা ছাড়া অন্যের সাথে সংযুক্ত করে তার জন্য জান্নাত হারাম হয়ে যাবে’। (ইবনে মাজাহ)

হজরত আবদুল্লাহ ইবন আমর রা: থেকে বর্ণিত, তিনি মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা: থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি সা: বলেছেন, ‘যে কেউ নিজের বাবা ছাড়া অন্যের পরিচয়ে পরিচয় দেয় সে জান্নাতের গন্ধও পাবে না, যদিও জান্নাতের সুঘ্রাণ ৭০ বছর হাঁটার রাস্তার দূরত্ব থেকেও পাওয়া যাবে।’ (মুসনাদে আহমাদ)

এমন অনেক হাদিস রয়েছে যেখানে মহানবী সা: নারীদের তাদের পিতার নামে ডেকেছেন। যখন পবিত্র কুরআনের আয়াত ‘আপনি আপনার নিকটতম আত্মীয়দের সতর্ক করে দিন’। (আল-কুরআন : ২১৪) নাজিল হয় তখন মহানবী সা: তাঁর আত্মীয়দের প্রত্যেককে ডেকে ডেকে বলেছিলেন : ‘হে অমুকের ছেলে অমুক! আমি পরকালে তোমার কোনো উপকার করতে পারব না। হে অমুকের মেয়ে অমুক! আমি কিয়ামতের দিন তোমাদের কোনো কাজে আসব না।’ (আল-কাশফুল মুবদি) কিয়ামতের মাঠেও প্রত্যেককে তার বাবার নাম ধরে ডাকা হবে। হাদিসের কিতাবগুলোয় এ সংক্রান্ত অনেক হাদিস রয়েছে।

দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর রা:-এর শাসনামলের একটি বিখ্যাত ঘটনা হাদিসের বর্ণনায় এসেছে। তা হলো তিনি এক রাতে যখন প্রজাদের খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য বের হলেন তখন একজন মহিলার বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যিনি স্বামীর বিরহে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছিলেন। তিনি পরদিন সকালে মহিলাটির খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য লোক পাঠালেন। তাঁকে বলা হলো এ মহিলা হলেন অমুকের মেয়ে অমুক। তার স্বামী আল্লাহ রাস্তায় জেহাদে রয়েছেন। (সুনানে সাঈদ ইবনে মানসুর) এখানে প্রণিধানযোগ্য বিষয় হলো, মহিলাটি বিবাহিত হলেও তার পরিচয়ের ক্ষেত্রে বলা হলো অমুকের মেয়ে অমুক; একথা বলা হলো না যে, অমুতের স্ত্রী অমুক।

আরো যে সব কারণে নারীদের বাবার নামে পরিচিত হওয়া উচিত নয় তা হলো : 

০১. স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে কোনো রক্ত সম্পর্ক থাকে না। কিন্তু বাবা মেয়ের রক্ত সম্পর্ক চিরদিনের। 

০২. স্বামী-স্ত্রী একে অপরের সাথে মনোমালিন্য হলে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটতে পারে। তখন এই নাম থাকে না। 

০৩. স্বামী মারা গেল স্ত্রী অন্য পুরুষকে বিয়ে করতে পারে। তখন এই নামের কী দশা হবে তা সহজেই অনুমেয়। 

০৪. স্বামী তো বিয়ের পর নিজের নাম পরিবর্তন করে না, তাহলে নারী কেন করবে? এটি কি নারী অধিকারের লঙ্ঘন নয়? আলোচ্য প্রবন্ধে নতুন একটি বিষয়কে অত্যন্ত হ্মুদ্র পরিসরে আলোচনা করা হলো। মুসলিম সমাজের উচিত ইসলামকে পুরোপুরি অনুসরণ করা। আর যারা পরিপূর্ণ মানতে চায় তাদের উচিত এসব বিষয়ে সজাগ ও সতর্ক থাকা। যাতে করে কোনো অজুহাতেই অভিশপ্ত শয়তান কোনোভাবেই আমাদের সত্য ও সঠিক পথ ‘সিরাতুল মুস্তাকিম’ থেকে বিচ্যুত করতে না পারে।

আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক--

শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা"[তিরমিযীঃ২৬৭৪]





কেউ যদি কোন নারীকে ধর্ষণ করতে উদ্যত হয় তখন সেই নারীর উপর আত্মরক্ষা করা কি ওয়াজিব?

 প্রশ্ন: কেউ যদি কোন নারীকে ধর্ষণ করতে উদ্যত হয় তখন সেই নারীর উপর আত্মরক্ষা করা কি ওয়াজিব? আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র ব্যবহার করা জায়েয হবে কি?


.

যে নারীর সাথে জোরপূর্বক যেনা করার চেষ্টা করা হচ্ছে সে নারীর উপর আত্মরক্ষা করা ফরজ। তিনি কিছুতেই দুর্বৃত্তের কাছে হার মানবেন না। এজন্য যদি দুর্বৃত্তকে হত্যা করে নিজেকে বাঁচাতে হয় সেটা করবেন। এই আত্মরক্ষা ফরজ। ধর্ষণ করতে উদ্যত ব্যক্তিকে হত্যা করার কারণে তিনি দায়ী হবেন না। 

.

এর সপক্ষে দলিল হচ্ছে- ইমাম আহমাদ ও ইবনে হিব্বান কর্তৃক সংকলিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস “যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেল সে শহীদ। যে ব্যক্তি তার জীবন রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেল সে শহীদ। যে ব্যক্তি তার ধর্ম রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেল সে শহীদ। যে ব্যক্তি তার পরিবার রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেল সে শহীদ।” এ হাদিসের ব্যাখ্যায় এসেছে - “যে ব্যক্তি তার পরিবার রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেল সে শহীদ” অর্থাৎ যে ব্যক্তি তার স্ত্রী অথবা অন্য কোন নিকটাত্মীয় নারীর ইজ্জত রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেল (সে শহীদ)।

 যদি স্ত্রীর ইজ্জত রক্ষা করার জন্য লড়াই করা ও ধর্ষকের হাত থেকে স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত হওয়া স্বামীর জন্য বৈধ হয় তাহলে কোন নারী নিজের ইজ্জত নিজে রক্ষা করার জন্য প্রাণান্তকর লড়াই করা; এই ধর্ষক, জালিম ও দুর্বৃত্তের হাতে নিজেকে তুলে না দিয়ে নিহত হওয়া সে নারীর জন্য বৈধ হওয়া অধিক যুক্তিপূর্ণ। কেননা তিনি যদি নিহত হন তাহলে তিনি শহীদ। যেমনিভাবে কোন নারীর স্বামী তার স্ত্রীর ইজ্জত রক্ষা করতে গিয়ে যদি নিহত হন তিনি শহীদ। শহীদি মৃত্যুর মর্যাদা অনেক বড়। আল্লাহর আনুগত্যের পথে, তাঁর পছন্দনীয় পথে মারা না গেলে এ মর্যাদা লাভ করা যায় না। 

.

এর থেকে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ তাআলা এ ধরনের প্রতিরোধকে তথা কোন ব্যক্তির তার স্ত্রীর ইজ্জত রক্ষার জন্য লড়াই করাকে এবং কোন নারীর তার নিজের ইজ্জত রক্ষার জন্য লড়াই করাকে পছন্দ করেন। আর যদি কোন নারী আত্মরক্ষা করতে সমর্থ না হন, পাপিষ্ঠ ও দুশ্চরিত্র লোকটি যদি তাকে পরাস্ত করে তার সাথে যেনাতে লিপ্ত হয় তাহলে এ নারীর উপর হদ্দ (যেনার দণ্ড) অথবা এর চেয়ে লঘু কোন শাস্তি কার্যকর করা হবে না। কারণ হদ্দ কায়েম করা হয় সীমালঙ্ঘনকারী, পাপী ও দুশ্চরিত্র ব্যক্তির উপর।

.

ইবনে কুদামা আল হাম্বলীর “মুগনী” নামক গ্রন্থে এসেছে- যে নারীকে কোন পুরুষ ভোগ করতে উদ্যত্ব হয়েছে ইমাম আহমাদ এমন নারীর ব্যাপারে বলেন: আত্মরক্ষা করতে গিয়ে সে নারী যদি তাকে মেরে ফেলে...যদি সে নারী জানতে পারেন যে, এ ব্যক্তি তাকে উপভোগ করতে চাচ্ছে এবং আত্মরক্ষার্থে তিনি তাকে মেরে ফেলেন তাহলে সে নারীর উপর কোন দায় আসবে না। 

এ প্রসঙ্গে ইমাম আহমাদ একটি হাদিস উল্লেখ করেন যে হাদিসটি যুহরি বর্ণনা করেছেন কাসেম বিন মুহাম্মদ থেকে তিনি উবাইদ বিন উমাইর থেকে। তাতে রয়েছে- এক ব্যক্তি হুযাইল গোত্রের কিছু লোককে মেহমান হিসেবে গ্রহণ করল। সে ব্যক্তি মেহমানদের মধ্য থেকে এক মহিলাকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করেছিল। তখন সে মহিলা তাকে পাথর ছুড়ে মারেন। যার ফলে লোকটি মারা যায়। সে মহিলার ব্যাপারে উমর (রাঃ) বলেন: আল্লাহর শপথ, কখনই পরিশোধ করা হবে না অর্থাৎ কখনোই এই নারীর পক্ষ থেকে দিয়ত (রক্তমূল্য) পরিশোধ করা হবে না। কারণ যদি সম্পদ রক্ষার্থে লড়াই করা, সম্পদ খরচ করা, ব্যবহার করা জায়েয, তাহলে কোন নারীর তার আত্মরক্ষার্থে খারাপ কাজ থেকে নিজেকে হেফাযত করতে গিয়ে, যেনা থেকে নিজেকে বাঁচাতে গিয়ে [যে গুনাহ কোন অবস্থায় বৈধ নয়] লড়াই করা সম্পদ রক্ষার লড়াই এর চেয়ে অধিক যুক্তিপূর্ণ। এইটুকু যখন সাব্যস্ত হল সুতরাং সে নারীর যদি আত্মরক্ষা করার সামর্থ্য থাকে তাহলে সেটা করা তার উপর ওয়াজিব। কেননা দুর্বৃত্তকে সুযোগ দেয়া হারাম। এক্ষেত্রে আত্মরক্ষা না করাটাই তো সুযোগ দেয়া।

[আল-মুগনি (৮/৩৩১)] ।[আল-মুফাসসাল ফি আহকামিল মারআ (৫/৪২-৪৩)]

.

ইবনুল কাইয়্যেম তাঁর “আত-তুরুকুল হুকমিয়্যা” গ্রন্থে বলেন: ১৮- (পরিচ্ছেদ) উমর (রাঃ) এর নিকট এক মহিলাকে আনা হল যে মহিলা যেনা করেছে। তিনি তাকে জিজ্ঞসাবাদ করলেন: মহিলাটি দোষ স্বীকার করল। উমর (রাঃ) তাকে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করার নির্দেশ দিলেন। তখন আলী (রাঃ) বললেন: এ নারীর কোন ওজর থাকতে পারে। এ কথা শুনে উমর (রাঃ) মহিলাটিকে বললেন: কেন তুমি যেনা করেছ? মহিলাটি বলল: আমি এক লোকের সাথে একত্রে পশু চরাতাম। তার উটপালে পানি ও দুধ ছিল। আমার উটপালে পানি ও দুধ ছিল না। আমি পিপাসার্ত হয়ে তার কাছে পানি চাইলাম। সে অস্বীকার করে বলল- আমি আমাকে ভোগ করতে দিলে সে পানি দিবে। আমি (তার প্রস্তাব) তিনবার অস্বীকার করলাম। এরপর আমি এত তীব্র পিপাসা অনুভব করলাম যেন আমার প্রাণবায়ু বেরিয়ে যাবে। তখন আমি সে যা চায় তাকে তা দিলাম। বিনিময়ে সে আমাকে পানি পান করাল। তখন আলী (রাঃ) বললেন: আল্লাহু আকবার (আল্লাহ মহান)।

.

فَمَنْ اُضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلا عَادٍ فَلا إثْمَ عَلَيْهِ ، إنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ

.

(অর্থ- অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং নাফরমানী ও সীমালঙ্ঘনকারী না হয়, তার জন্য কোন পাপ নেই। নিঃসন্দেহে আল্লাহ মহান ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু।)[সূরা বাকারা, আয়াত: ১৭৩]

(সুনানে বাইহাকী)

.

কেউ যদি বলেন: এমতাবস্থায় নিজেকে তুলে দেয়া কি জায়েয; নাকি মৃত্যু হলেও ধৈর্য রাখা ওয়াজিব? উত্তর হচ্ছে: এই নারীর ক্ষেত্রে শরয়ী হুকুম হচ্ছে- জোরপূর্বক ধর্ষণের শিকার নারীর হুকুম। যে নারীকে এই বলে হুমকি দেয়া হয়: ‘সুযোগ দিলে দে; না হয় তোকে মেরে ফেলব’। ধর্ষণের শিকার নারীর উপর হদ্দ কায়েম করা হবে না। মৃত্যু থেকে বাঁচার জন্য সে নারী নিজের ইজ্জত বিসর্জন দিতে পারে। তবে যদি কোন নারী ধৈর্যধারণ করে মৃত্যুকে বরণ করে নেয় (পিপাসা বা ক্ষুধায় খাদ্যের অভাবে)তবে সেটা তার জন্য উত্তম। কিন্তু এক্ষেত্রে ধৈর্য ধরা তার উপর ফরজ নয়।

.

কিন্তু আত্নহত্যা করা যাবেনা  করলে জাহান্নামী হবে। নিজে পারলে তাকে হত্যা করবে,,,। না পারলে নিজেকে শেষ  করে দেওয়া যাবে না, নিজেকে হত্যা করার শাস্তি জাহান্নাম। 

[আল্লাহই ভাল জানেন]

.

উত্তর দিয়েছেন-

 শাইখ মুহাম্মদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ

প্রশ্ন: কেউ যদি কোন নারীকে ধর্ষণ করতে উদ্যত হয় তখন সেই নারীর উপর আত্মরক্ষা করা কি ওয়াজিব? আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র ব্যবহার করা জায়েয হবে কি?

শেষ ভালো যার সব ভালো তার l

"শেষ ভালো যার সব ভালো তার
"وإنما الأعمال بالخواتيم তীরে এসে যখন তাঁর তরী ডোবার মত অবস্থা, তখন যেন হাদীসের এই খাদেমের জন্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দোয়া লেগে গেল! نضَّر الله امرأً سَمِع مقالتي فوَعَاها وحَفِظها وبَلَّغها، فرُبَّ حامل فِقْه إلى مَن هو أفقه منه، ثلاث لا يغلُّ عليهنَّ قلبُ مسلم: إخلاصُ العمل لله، ومناصحة أئمة المسلمين، ولزوم جماعتهم؛ فإنَّ الدَّعْوة تُحيط من ورائهم. নাদ্দারাল্লাহু ইমরাআন সামিয়া মাকালাতি... । ''যে ব্যক্তি আমার বক্তব্য শুনেছে, অতঃপর তার প্রচার করেছে, আল্লাহ তাকে হাস্যোজ্জ্বল ও সতেজ করুন......) " (মুসনাদে আহমাদ : ২১০৮০, সহীহ) . একদম শেষ মুহূর্তে সঠিকতম কাজটি করে গেলেন। বিতর্কিত পুত্রের বহিষ্কার মেনে নিলেন। বার্ধক্যজনিত কারণে নিজেও সরে গেলেন দায়িত্ব থেকে। জীবনের সব পাওয়াকে পূর্ণতা দিলেন তিনি। যেনবা সব অপূর্ণতা ও সীমাবদ্ধতাকে উৎরে গেলেন। ভাবতে পারেন তিনি দুদিন আগে চলে গেলে কেমন হত? বলবেন, পরিস্থিতি। আমি বলব, আল্লাহর তাওফিক। . নিচের হাদিসটি পড়ে আবেগ ধরে রাখা কঠিন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : 'আল্লাহ তা'আলা যদি কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন সে বান্দাকে ‘আসাল’ দান করেন! সাহাবায়ে কেরাম বললেন : আসাল কী? তিনি বললেন, আল্লাহ তা'আলা বান্দাকে বিশেষ একটি ভালো কাজ করার তাওফিক দেন এবং এই আমলের ওপর তার মৃত্যু ঘটান।' (মুসনাদে আহমাদ : ১৭৩৩০)। এই "আসাল"এর তাওফিক কতজনের নসীবে জোটে! আল্লাহ তাঁকে ক্ষমাকরে ফিরদাউস দান করুন।। - আলী হাসান তায়্যীব (অনেক দুয়া ভাই)

অন্যকে সংশোধনে আমরা যতোটা তৎপর, নিজের সংশোধনে ঠিক ততোটাই উদাসীনi

 অন্যকে সংশোধনে আমরা যতোটা তৎপর, নিজের সংশোধনে ঠিক ততোটাই উদাসীন। 

অন্যের ভুল ধরা, দোষ খোঁজা ও সমালোচনাকে আমরা রীতিমত ইবাদতের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছি। আফসোস!
.
সবসময় অন্যের পেছনে পড়ে থাকা, বর্তমান সময়ের ফিতনা গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি ভয়াবহ ফিতনা। দু:খজনক হলেও সত্য যে, এ ক্ষেত্রে নামধারী ইসলামপন্থীরাই সবচাইতে এগিয়ে। হিংসার বিষবাষ্প যে কতটা জঘন্য হতে পারে, নিকট অতীতে তা প্রত্যক্ষ করার সুযোগ আমাদের হয়েছে।
.
দিনরাত অন্যের মানহাজ উদ্ধারে ব্যস্ত আর সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্মানিত আলেমদের ছবির উপরে রেড ক্রস মেরে, উগ্রতা ফেরি করাই ওদের কাজ। প্রভুর দেখানো পথ গ্রহণ না করে ওরা নিজেদের প্রবৃত্তিকেই প্রভু বানিয়েছে। যতদিন নিজেদের মত ও চিন্তার সাথে মিলেছে ততোদিন বাহবা। আর নিজেদের মতের সামান্য বাইরে গেলে, শুরু হয় বাহারি ট্যাগ লাগানোর মহোৎসব।
.
এদের আচরণ কেমন যেন ভ্রস্ট ও অভিশপ্ত জাতিগোষ্ঠির স্বভাবের সাথে হুবহু মিলে যাচ্ছে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করছেন: “নবি হে, ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা কখনোই আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না আপনি তাদের মতাদর্শের পুরোপুরি অনুসরণ না করবেন”। (বাকারাহ: ১২০)
.
আমি যে মতের উপর আছি শুধু মাত্র এটাই হক্ব বা আমি যে দল করি সে দলই কেবল জান্নাতি আর বাকীরা সবাই গোমরাহ, বাকীরা সবাই জাহান্নামী। এজাতীয় চিন্তা পরিহার করুন। চিন্তার এই বিভ্রাট আমাদেরকে দিনকে দিন দলকানা করে তুলেছে। দলান্ধতা ও মতান্ধতা আমাদেরকে শেষ করে দিচ্ছে।
.
আল্লাহ তায়ালার জান্নাত কী এতই ছোট যে অন্যকে জাহান্নামী বানিয়ে সেটা আমাদেরকে দখল করতে হবে? আপনার ঈমান কি এতই ঠুনকো যে আরেকজনকে ভ্রষ্ট প্রমাণ করেই সেটা রক্ষা করতে হবে? তথাকথিত সহিহ আক্বিদা যাদেরকে এতটুকু সহনশীলতার সবকও দিতে পারেনি তাদের প্রতি আসলেই করুনা হয়।
.
তাই, সময় এসেছে সকল প্রান্তিকতা পরিহার করে, কুরআন সুন্নাহর আলোকে মধ্যমপন্থা অবলম্বনের। ইনশাআল্লাহ, সেদিন বেশী দূরে নয়, যে দিন সকল উগ্রতা, বাড়াবাড়ি আর প্রান্তিকতা, অস্তিত্ব সংকটে পড়ে, মধ্যমপন্থার সৌন্দর্যের কাছে অসহায় হয়ে পড়বে।
.
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করছেনঃ
“এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী উম্মত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছি যাতে করে তোমরা পুরো মানবমন্ডলীর জন্যে সাক্ষ্যদাতা হও এবং যাতে রসূল হতে পারেন তোমাদের উপর সাক্ষী।” (বাকারাহ:১৪৩)


যে তামাশায় দুনিয়া ও আখিরাত সব হারাবেন

আমাদের সমাজে কত রকম মানুষ, কত রকম মুসলমান। কেউ নামাজ পড়ে, কেউ পড়ে না; কেউ ভালো কাজ করে, কেউ খারাপে লিপ্ত থাকে। এতসব কাজের মধ্যে যে কাজটি আজকাল অহরহ চোখে পড়ে, তা হচ্ছে ইসলাম বা মুসলমানদের কোনো বিষয় নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করা। বন্ধুদের আড্ডায় আপনিও হয়তো শুনেছেন—ওই দেখ, হুজুরের কী সুন্দর ছাগলা দাড়ি! সবার সঙ্গে আপনিও হয়তো হেসে ফেললেন হো হো করে। আমাদের কিছু প্রবাদ বাক্যও এমন রয়েছে, যাতে সুস্পষ্টভাবে ইসলাম নিয়ে বিদ্রূপ করা হয়েছে। কথায় কথায় কারও অক্ষমতা বোঝাতে ‘মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত’ কথাটি আমরা প্রায়ই ব্যবহার করে থাকি। কখনও ভেবে দেখেছেন, এ কথায় কাকে ঠাট্টা করা হলো—আল্লাহর ঘর মসজিদ নাকি মোল্লা-মৌলভী?

নবীযুগের ইসলামী শাসনব্যবস্থার সর্বোচ্চ পদবী ‘খলীফা’ আজ ‘দর্জি’র উপনাম। অত্যন্ত সম্মানিত ২য় পদবী ‘কাজী’ আজ হয়েছে বিয়ে পড়ানো মুন্সীর উপাধি। আহা! কোটি মুসলমানের দেশে কী সূক্ষভাবে অপমানিত হচ্ছে এককালের শক্তিধর দুটো উপাধি। আমাদের নাটক-সিনেমাগুলোতেও কখনও কখনও ইমাম বা হুজুর চরিত্র রূপায়ণ করানো হয় কোনো একটি খারাপ বা ঘৃণিত বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে, সুকৌশলে দর্শকদের যা জন্ম দেয় বিরূপ ধারণা। ছলে-বলে বিভিন্ন কার্টুনেও হেয় করা হয় বোরকাবৃত নারীকে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কোনো বিষয় নিয়ে আকারে-ইঙ্গিতে তাচ্ছিল্য আজ নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় যেন।

মুসলিম ভাইয়েরা, আল্লাহপাকের কাছে যে বিষয়গুলো অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং তিনি যেগুলোর কারণে বান্দার সব আমল বাতিল করে দেন, এসবের অন্যতম হচ্ছে—দ্বীন ইসলাম বা ইসলাম সম্পর্কিত কোনো বিষয় নিয়ে হাসি-তামাশা করা। শুধু কি আমল বাতিল হয়ে যাওয়া, বরং কোনো কোনো কথা ও ঠাট্টা তো আপনাকে ইসলাম থেকে বের করে দেবে আপনার অজান্তে।
নামাজ না পড়া গোনাহের কাজ, কিন্তু নামাজ বা নামাজিদের নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য কিংবা তামাশা করা কুফুরি। মুনাফেকদের প্রথম পরিচয় ছিল, তারা মুসলমানদের নিয়ে হাসি-তামাশা করত, তাদের বোকা ভাবত। আল্লাহপাক তাদের ধমক দিয়ে বলেছেন, ‘তারাই বোকা অথচ নিজেরা তা জানে না।’ (সূরা বাকারা-১৩)

ইমাম ইবনে কুদামাহ লিখেছেন, যে আল্লাহকে স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় গালি দিল, কিংবা যে আল্লাহ বা তাঁর রাসুল কিংবা দ্বীনের কোনো বিষয় নিয়ে ঠাট্টা করল, সে কাফের হয়ে গেল। (আল মুগনি)

ইমাম নববী বলেন, স্বেচ্ছায় কিংবা কেউ যদি স্পষ্টভাবে এমন কোনো কথা বলে যা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের কোনো বিধানকে তুচ্ছ করে, তা অবশ্যই কুফুরি। ইমাম কুরতুবি লিখেছেন, মজা করার জন্য হোক বা সত্যি সত্যি হোক, ইসলামের কোনো সাধারণ বিষয় নিয়ে হাসি-তামাশা করা কুফুরি। এতে কারও দ্বিমত নেই।
ইমাম ইবনে তাইমিয়া বলেন, দ্বীনের যে কোনো স্পষ্ট বিষয় নিয়ে ঠাট্টা করা কুফুরি। যে এমন করল তার ঈমান ধ্বংস হয়ে কুফুরিতে পরিণত হলো।

আর তাই কোনো একজন সাধারণ মানুষ, যে দাড়ি রেখে দ্বীনের ওপর চলতে সচেষ্ট, যে নারী বোরকায় নিজেকে আবৃত রেখে চলতে চান, তাকে যদি এ কারণে কেউ তুচ্ছ ভাবে কিংবা অন্য দৃষ্টিতে দেখে, তবে নিশ্চয়ই বিষয়টি গিয়ে দ্বীনের সীমারেখা পর্যন্ত পৌঁছে, যা অত্যন্ত ভয়ানক বিষয়। অনেক নামাজি মানুষ কিংবা দাড়িওয়ালা সাধু হয়তো অপকর্মে লিপ্ত, তাই বলে তো আর তার ধর্মকে গালমন্দ করা বৈধ হয়ে যায় না, এটি তার স্বভাবের দোষ, তার নামাজ কিংবা আমলের এতে কী?
অহরহ পথে-ঘাটে এসব বিষয় নিয়ে ‘মশকরা’ করে মানুষ নিজের অজান্তেই তার দ্বীন থেকে বহিষ্কৃত হয়ে যায়, সামান্য ‘বিদ্রূপে’ শেষ হয়ে যায় তার এতদিনের সব নেক আমল। তাই আজ থেকে সব বিষয় নিয়ে হাসি-তামাশা নয়, ইসলাম এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বিষয় নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য নয়, সামান্য একটু হাসির জন্য নিজের সব ঈমান-আমল বিকিয়ে দেয়া কোনো সচেতন বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারেনা। তাই আসুন, এই নিন্দনীয় কাজ-কর্ম থেকে নিজেরাও বেঁচে থাকি, অন্যকেও বাঁচিয়ে রাখি। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দান করুন।       আমীন

Sk sharif khan: নেককার মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করার ফজিলত

Sk sharif khan: নেককার মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করার ফজিলত: ��হাসান আল বাসরী [রহিমাহুল্লাহ] সূরা শু'য়ারার অদ্ভুত ব্যাখ্যা করেছেন! বলেছেন, তোমরা পৃথিবীতে ভাল মানুষদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক র...

সংক্রমণ বলতে কিছু নেই” – তবে কি রসুলুল্লাহ (সা.) এর কথা বিজ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক?

=============================
মুহম্মদ জাকির হোসেন

#ঘরেথাকুন, #সুস্থ্যথাকুন, #সুস্থ্যরাখুন, #ভুলহলেক্ষমাকরুন

গোলক ধাঁধাঁয় মু’মিন মুসলমান
সারা বিশ্ব আজ করোনা নামক এক ভাইরাসের আক্রমণে কোভিড-১৯ নামক মহামারিতে আক্রান্ত। এ ভাইরাসটি নিজে খুব বেশি মারাত্মক না হলেও অতিসংক্রমণশীলতার কারণে দ্রুত পৃথিবীর প্রায় সব দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বব্যাপী মানুষকে ঘরে বন্ধি করে রেখেছে। বিশ্বব্যাপী সকল ধরণের জনসমাবেশ বন্ধ করা হয়েছে। তারই অংশ হিসাবে অনেক দেশে মসজিদে জামাত নিষিদ্ধ করা হয়েছে, ক্বাবা ও মসজিদে নববীসহ অনেক দেশের মসজিদে জামাতে মুসুল্লির সমাগম সীমিত করা হয়েছে। বাংলাদেশেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন ঘরণার আলেমগণের সাথে আলোচনা করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মসজিদে যারা তাদের সুস্থ্যতার বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত নন, তাদের মসজিদে না যেয়ে বাসায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জামাত করার অনুরোধ করেছেন। তারই প্রেক্ষিতে, জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকারমে গত শুক্রবার সীমিত আকারে জামাত হয়েছে। অন্যান্য অধিকাংশ মসজিদ এই সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও কতিপয় আলেম এ সিদ্ধান্তের সাথে একমত হতে পারছেন না। তাদের কেউ কেউ এই সিদ্ধান্তকে কুফুরি সিদ্ধান্ত এবং যারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা কাফের হয়ে গেছেন বলেও মন্তব্য করেছেন। এ ঘরণার আলেমগণ রসুলুল্লাহ (সা) এর একটি বক্তব্য “সংক্রমণ বলে কিছু নেই” (যা বেশ কয়েকটি সহীহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে) কে মূল ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করছেন।
সাধারণ মানুষের মধ্যে একদিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ভয় কাজ করছে আবার অপর দিকে তারা মসজিদে যেয়ে নামাজের ফজিলত প্রাপ্তির আশাও ছাড়তে পারছেন না। তারা এখন সত্যি সত্যি উভয়সংকটে আছেন। বিজ্ঞান নিশ্চিত করেই বলছে করোনা ভাইরাস একজনের দেহ হতে আরেক জনের দেহে সংক্রমিত হয়। আবার রসুলুল্লাহ (সা) এর সহীহ হাদিস বলছে সংক্রমণ বলতে কিছু নেই।
তাহলে কি হাদিসের বক্তব্য নির্ভুল নয়? একজন মু’মিন কল্পনায়ও আনতে পারেন না যে, কোন সহীহ হাদিসের বক্তব্য নির্ভুল হতে পারে না। কারণ রসুলুল্লাহ (সা) নিজ হতে কিছু বলেননি। তিনি সেই কথাই বলেছেন, সেই কাজই করেছেন যা আল্লাহ তাঁকে বলেতে বলেছেন, আল্লাহ তাঁকে করতে বলেছেন। কাজেই সহীহ হাদিসের বক্তব্য ভুল হতে পারে না।
দৃশ্যত মু’মিন মুসলমানের বিশ্বাস এবং বিজ্ঞানের নিশ্চিত তথ্য পরস্পর বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। এর কি কোন ব্যাখ্যা আছে? এক বিষয়ে দু’টি বিপরীতমুখী সিদ্ধান্ত সত্য হতে পারে না। হয় বিজ্ঞান ভুল নয় হাদিস (নাউযুবিল্লাহ)। অথবা এর কি অন্যকোন অর্থ আছে যা আমরা মিস করে যাচ্ছি? এমন কি কোন ব্যাখ্যা আছে যা দিয়ে বোঝা যাবে, হাদিস এবং বিজ্ঞান আসলে একই কথা বলছে?
চলুন আমরা এ বিষয়ে একটু গবেষণা করি। তবে প্রিয় পাঠক, মনে রাখবেন, লেখক না বৈজ্ঞানিক, না আলেম। লেখক ভূতত্ত্ব ও ব্যবসায় প্রশাসনে পড়াশুনা করেছেন এবং কাস্টমস ও ভ্যাট নিয়ে কাজ করেন। কাজেই লেখকের বোঝায় ভুল থাকতে পারে। আল্লাহই ভালো জানেন। ভুল হলে অগ্রীম ক্ষমাপ্রার্থী এবং সঠিক পথের অনুসন্ধিৎসু যাত্রী।
চলুন হাদিসগুলো দেখি
আমরা বিষয়টিকে শুধু একটি হাদিসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রাসঙ্গিক আরো কয়েকটি হাদিসের সাথে সমন্বয় করে দেখতে পারি। সংক্রমণ সংক্রান্ত অনেকগুলো হাদিস আছে। এখানে আমরা শুধু প্রাসঙ্গিক কয়েকটি সহীহ হাদিস উপস্থাপন করছি। আশা করা যায় এতেই গোলক ধাঁধাঁ হতে  বের হওয়ার জন্য আমরা পথের দিশা পাব ইনশা আল্লাহ।
সহীহ বুখারি, হাদিস নং ৫৭৭৩। সংক্রমণ বলতে কিছু নেই।
সহীহ বুখারি, হাদিস নং ৫৭৭০। রোগের মধ্যে কোন সংক্রমণ নেই, সফর মাসের মধ্যে অকল্যাণের কিছু নেই এবং পেঁচার মধ্যে কোন অশুভ আলামত নেই। তখন এক বেদুঈন বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে যে উট পাল মরুভূমিতে থাকে, হরিণের মত তা সুস্থ ও সবল থাকে। উটের পালে একটি চর্মরোগওয়ালা উট মিশে সবগুলোকে চর্মরোগগ্রস্ত করে দেয়? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তবে প্রথম উটটির মধ্যে কীভাবে এ রোগ সংক্রমিত হল?
সহীহ বুখারি, হাদিস নং ৫৭০৭। রোগের কোন সংক্রমণ নেই, কুলক্ষণ বলে কিছু নেই, পেঁচা অশুভের লক্ষণ নয়, সফর মাসের কোন অশুভ নেই। কুষ্ঠ রোগী থেকে দূরে থাক, যেভাবে তুমি বাঘ থেকে দূরে থাক।
সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৫৭১৫। আমর ইবনু শারদ (রাযিঃ)-এর সানাদে তার পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাকীফ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি দলের মধ্যে জনৈক কুষ্ঠ রোগী ছিলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট (খবর) পাঠালেন যে, আমরা তোমাকে বাইআত করে নিয়েছি; তুমি ফিরে যাও।
সহীহ বুখারি, হাদিস নং ৫৭৭৪। রোগাক্রান্ত উট নীরোগ উটের সাথে মিশ্রিত করবে না।
সুনানে আত তিরমিজী,  হাদিস নং ১০৬৫। যে গযব বা শাস্তি বানী ইসরাঈলের এক গোষ্ঠীর উপর এসেছিলো, তার বাকী অংশই হচ্ছে মহামারী। অতএব, কোথাও মহামারী দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থানরত থাকলে সে জায়গা হতে চলে এসো না। অপরদিকে কোন এলাকায় এটা দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থান না করলে সে জায়গাতে যেও না। [হাদিসটি সহীহ সনদে বর্ণিত]
সহীহ বুখারি, হাদিস নং ৩৪৭৩। প্লেগ একটি আযাব। যা বনী ইসরাঈলের এক সম্প্রদায়ের উপর পতিত হয়েছিল অথবা তোমাদের পূর্বে যারা ছিল। তোমরা যখন কোন স্থানে প্লেগের ছড়াছড়ি শুনতে পাও, তখন তোমরা সেখানে যেয়ো না। আর যখন প্লেগ এমন জায়গায় দেখা দেয়, যেখানে তুমি অবস্থান করছো, তখন সে স্থান হতে পালানোর লক্ষ্যে বের হয়ো না।
হাদিসগুলো পর্যালোচনায় দুটি বিষয় লক্ষণীয় হয়, যথা:
প্রথমত: সহীহ বুখারির হাদিস নম্বর ৫৭৭৩, ৫৭৭০ ও ৫৭০৭ এর মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া যায় সংক্রমণ বলে কিছু নেই এবয় রোগের কোন সংক্রমণও নেই। সারমর্ম: কোন রোগ সংক্রমক নয়।
দ্বিতীয়ত সহীহ বুখারির হাদিস নম্বর ৫৭০৭ ও ৫৭৭৪ এবং সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৫৭১৫ এর মাধ্যমে স্পষ্ট নির্দেশ হলো: কুষ্ঠ রোগী হতে দূরে থাক যেমন বাঘ থেকে দূরে থাক এবং রোগাক্রান্ত উটকে নীরোগ উটের সংস্পর্শে নিয়ো না। অর্থাৎ কতিপয় রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি বা পশু হতে সুস্থ্য ব্যক্তি ও পশুকে দূরে রাখ। আবার সুনানে আত তিরমিজী,  হাদিস নং ১০৬৫ এ রসুল (সা) মহামারি প্রবণ এলাকা হতে বের হতে বা সে এলাকায় প্রবেশ করা হতে বিরত থাকতে নিষেধ করেছেন। একইভাবে সহীহ বুখারির হাদিস নম্বর ৩৪৭৩ এ প্লেগ রোগের নাম উল্লেখ করে একই নির্দেশ দিয়েছেন। বৈজ্ঞানিক তথ্য মতে, প্লেগ একটি সংক্রামক রোগ।  সারমর্ম: সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণী হতে দূরে থাক যাতে তা হতে তুমি আক্রান্ত না হও।
বিষয় দুটিকে মিলাতে কষ্ট হচ্ছে? পরস্পর বিপরীতমুখী মনে হচ্ছে?  চলুন দেখা যাক বিজ্ঞান কি বলে।
ভাইরাসকেও সামান্য জানি
ভাইরাস (Virus) হল একপ্রকার অতিক্ষুদ্র জৈব কণা বা অণুজীব যারা জীবিত কোষের ভিতরেই মাত্র বংশবৃদ্ধি করতে পারে। এরা অতি-আণুবীক্ষণিক এবং অকোষীয়। ভাইরাস জীব হিসেবে বিবেচিত হবে কিনা, এ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে দ্বিমত আছে। ভাইরাস কে জীবাণু না বলে 'বস্তু' বলা হয়।  কেবলমাত্র উপযুক্ত জীবন্ত পোষকদেহের অভ্যন্তরে তারা বংশবৃদ্ধি করতে পারে। জীব দেহের বাইরে এরা বংশ বিস্তার করতে পারে না। অর্থাৎ ভাইরাস জীবদেহের বাইরে জড় বস্তু হিসাবে বিবেচিত হয়। তারা জীবদেহে জীব এবং জড় বস্তুতে জড় হিসাবে আচরণ করে। যেহেতু পোষক বা জীব-দেহের বাইরে তারা জড় বস্তু সেহেতু তারা নিজেরা চলাচলও করতে পারে না।
এখন চলুন এই আজব জীব-জড় বৈশিষ্টের বস্তুটি কিভাবে চলাচল করে সে বিষয়ে কিঞ্চিত আলোচনা করা যাক। ভাইরাস যেহেতু নিজে চলাচল করতে পারে না কাজেই তাকে অন্য কারোর ওপর ভর করে চলাচল করতে হয়। যার মাধ্যমে ভাইরাস স্থানান্তরিত হয় তাকে বাহক বলা হয়। যেমন মানুষ, অন্যকোন প্রাণী বা ব্যবহার্য কোন বস্তু।
সংক্রামক রোগ কি: যে রোগ ব্যাকটিরিয়া, ভাইরাস, পরজীবী বা ছত্রাকের মতো রোগসৃষ্টিকারী (pathogenic) অণুজীবের মাধ্যমে সৃষ্ট এবং কোন বাহকের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়িয়ে যেতে পারে সেটিই সংক্রামক রোগ। এখানেও রোগটি ছড়ানোর জন্য বাহক বাধ্যতামূলক।
ভাইরাস কি সংক্রামক: যে ভাইরাস নিজে চলতে পারে না, যে পোষক দেহের বাইরে জড় বস্তু, তার নিজে নিজে সংক্রমিত হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তবে কোন উপযুক্ত বাহক পেলে সে স্থানান্তরিত হয়ে অন্য পোষক দেহে প্রবেশ করে সেখানে রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
একইভাবে কোন রোগ যেমন প্লেগ বা করোনা ভাইরাস সৃষ্ট কোভিড-১৯ রোগ হিসাবে নিজে ছোঁয়াচে বা সংক্রামক নয়। আসলে রোগের নিজের সংক্রামক হওয়ার কোন সুযোগ নেই। রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস যখন এক পোষক হতে বাহকের মাধ্যমে অন্য পোষকের দেহে স্থানান্তরিত হয় তখন ভাইরাসটি নতুন পোষকের দেহে রোগ সৃষ্টি করে।
চলুন এবার সূত্র মেলাই
রসুলুল্লাহ (সা) এর কথা - বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
সংক্রমণ বলতে কিছু নেই -কোন রোগ বা ভাইরাস নিজে নিজে এক জনের দেহ হতে অন্য জনের নিকট স্থানান্তরিত হয় না। কোন না কোন বাহক লাগে। তাই বাহক বিহীন অবস্থায় কোন সংক্রমণ নেই।
রোগের মধ্যে কোন সংক্রমণ নেই বা রোগের কোন সংক্রমণ নেই - আমরা তোমাকে বাইআত করে নিয়েছি; তুমি ফিরে যাও- দলের সাথে একজন কুষ্ঠ রোগী থাকায় রসুল (সা) তার সংস্পর্শে না এসে তাকে দূর থেকে বাইয়াত করান। এর কারণ যদি কুষ্ঠ রোগীর সাথে রসুল (সা) মোসাবা করতেন তাহলে স্পর্শের মাধ্যমে তাঁর দেহেও কুষ্ঠ রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকতো। তাই তিনি সাবধানতা অবলম্বন করেছেন। এ সাবধানতা অণুজীব দ্বারা সৃষ্ট যেকোন রোগের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
তবে প্রথম উটটির মধ্যে কীভাবে এ রোগ সংক্রমিত হল?- মানুষ শূন্য থেকে কোন কিছু সৃষ্টি করেত পারে না। তারা এক বস্তুকে অন্য বস্তুতে রূপান্তর করে তার ব্যবহারে বৈচিত্র আনতে পারেন। আল্লাহই শূন্য হতে নতুন কিছু সৃষ্টি করতে পারেন। প্রথম উটের অসুখ আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলার তরফ থেকেই এসেছে।
কুষ্ঠ রোগী থেকে দূরে থাক, যেভাবে তুমি বাঘ থেকে দূরে থাক- কুষ্ঠ রোগ ব্যাকটেরিয়া সৃষ্ট। এ রোগের জীবাণুও এক পোষকের স্পর্শ, সর্দি-কাশি ইত্যাদি বাহক মারফত অন্য পোষকে সংক্রমিত হয়। নিজে হয় না। যেহেতু একজন রোগীর সংস্পর্শের মাধ্যমে  এ রোগ অন্য জনের নিকট সংক্রমিত হয় সেহেতু কুষ্ঠ রোগী হতে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। দূরে থাকলে এ রোগের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত হবে না।
রোগাক্রান্ত উট নীরোগ উটের সাথে মিশ্রিত করবে না- রোগের জীবাণু এক উটের স্পর্শ  বা মল-মূত্রের মাধ্যমে অন্য উটে সংক্রমিত হতে পারে। রোগটি নিজে নিজে সংক্রমিত হয় না। যেহেতু একটি অসুস্থ উটের সংস্পর্শের মাধ্যমে জীবাণু অন্য একটি উটে সংক্রমিত হয় সেহেতু অসুস্থ উটকে সুস্থ্য উটের সাথে মিশাতে নিষেধ করা হয়েছে।
কোথাও মহামারী দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থানরত থাকলে সে জায়গা হতে চলে এসো না। অপরদিকে কোন এলাকায় এটা দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থান না করলে সে জায়গাতে যেও না। - মহামারী সাধারণত কোন ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার কারণেই হয়ে থাকে। যেমন স্পেনিশ ফ্লো, কোভিড-১৯ ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট। আবার প্লেগ সৃষ্টি হয় ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে। এরা সবই বাহকের মাধ্যমে এক পোষক হতে অন্য পোষকের দেহে স্থানান্তরিত হয়।
প্লেগ বা অন্য যেকোন মহামারী সৃষ্টিকারী অণুজীব যাতে নতুন স্থানে ছড়িয়ে পড়তে না পারে তার জন্য মহামারী আক্রান্ত স্থান হতে  কাউকে বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। একই ভাবে সুস্থ্য কেউ যাতে মহামারী আক্রান্ত স্থানে গমন করে নিজে আক্রান্ত না হতে পারেন তার জন্য তাকে আক্রান্ত স্থানে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
দুইয়ে দুইয়ে চারই হয়
বর্ণিত হাদিসসমূহ এবং ভাইরাসের প্রকৃতি পর্যালোচনা করলে আমরা সহজেই বিজ্ঞান এবং হাদিসের মধ্যে পার্থক্যের বদলে ঐক্য দেখতে পাই। কোন রোগ সংক্রমিত হয় না যতক্ষণ না সে কোন বাহক পায়। বাহক হতে পারে রোগী নিজে বা তার হাঁচি-কাশি, মল-মূত্র, ঝরে পড়া পশম-চুল বা মৃত দেহকোষ, হতে পারে বাতাস, পানি, মাটি বা অন্য কোন জড় বস্তু অথবা কোন প্রাণী। রসুল (সা) এর বর্ণিত হাদিসগুলো একসাথে মিলালে দেখা যাবে, একদিকে তিনি রোগটিকে সংক্রমক নয় বলে উল্লেখ করেছেন এবং অপর দিকে তার বাহকের স্পর্শে না আসতে নির্দেশ দিয়েছেন।
হাদিস কোন বিজ্ঞানের গ্রন্থ নয়। হাদিসকে কখনো কখনো বিজ্ঞানের আলোকে ব্যাখ্যা করা যাবে। কখনো সেটা সম্ভব নাও হতে পারে। যেখানে সেটি পারা যাবে না, বুঝতে হবে, বিজ্ঞানকে আরো এগুতে হবে, সে এখনো অসম্পূর্ণ আছে। বিজ্ঞানে শেষ বা চূড়ান্ত বলে কিছু নেই। যেমন ধরুন, প্রথম দিকে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাস ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপে বিস্তারলাভ করে না। এখন বলা হচ্ছে সেটি সঠিক নয়। আবার কয়েকদিন আগেই বলা হতো, করোনা ভাইরাস এতোই ভারী যে, রোগী হাঁচি দিলে সেই ভাইরাস ১ মিটার দূরে যাওয়ার আগেই ধপাস করে মাটিতে পরে। দুর্ভাগ্য, এটিও হয়তো ঠিক নয়। আমেরিকার বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যেই বলতে শুরু করেছেন, করোনা ভাইরাস ৩ঘণ্টা পর্যন্ত বাতাসে ভাসতে পারে! ২ সপ্তাহ পরে আমরা হয়তো এ সম্পর্কে ভিন্ন রকমের তথ্য জানবো।
বিশ্বব্যাপী মসজিদে জামাত সীমিত করার সিদ্ধান্ত
শুরুতে আমরা যা বলছিলাম, এক ঘরণার আলেম মসজিদে স্বাভাবিক জামাত না করার সিদ্ধান্তের বিপক্ষে মতামত দিচ্ছেন। তারা “সংক্রমণ বলে কিছু নেই” হাদিসের যে যুক্তি দিচ্ছেন তা কতোটা নির্ভরযোগ্য তা বোঝার জন্য আমরা আরো ২টি হাদিস দেখে নিই।
সহীহ বুখারি, হাদিস নং ৯০১। ইবনু ‘আববাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি তাঁর মুয়ায্যিনকে এক প্রবল বর্ষণের দিনে বললেন, যখন তুমি (আযানে) ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ বলবে, তখন ‘হাইয়া আলাস্ সালাহ্’বলবে না, বলবে, ‘‘সাল্লু ফী বুয়ুতিকুম’(তোমরা নিজ নিজ বাসগৃহে সালাত আদায় কর)। তা লোকেরা অপছন্দ করল। তখন তিনি বললেনঃ আমার চেয়ে উত্তম ব্যক্তিই (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) তা করেছেন। জুমু’আহ নিঃসন্দেহে জরুরি। আমি অপছন্দ করি তোমাদেরকে মাটি ও কাঁদার মধ্য দিয়ে যাতায়াত করার অসুবিধায় ফেলতে।
সহীহ বুখারি, হাদিস নং ৬৩২। নাফি (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রচন্ড এক শীতের রাতে ইবনু ‘উমার (রা.) যাজনান নামক স্থানে আযান দিলেন। অতঃপর তিনি ঘোষণা করলেনঃ তোমরা আবাস স্থলেই সালাত আদায় করে নাও। পরে তিনি আমাদের জানালেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরের অবস্থায় বৃষ্টি অথবা তীব্র শীতের রাতে মুয়ায্যিনকে আযান দিতে বললেন এবং সাথে সাথে এ কথাও ঘোষণা করতে বললেন যে, তোমরা নিজ বাসস্থলে সালাত আদায় কর।
মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় অবশ্যই অনেক নিয়ামতের। তা হতে বঞ্চিত হওয়া বড়ই কষ্টের। কিন্তু এমন মহামারীর পরিস্থিতিতে বাসায় নামাজ পড়ার জন্য যথেষ্ট যুক্তি কি বর্ণিত হাদিসগুলোতে নেই? অনেকেই আবেগ প্রবণ হয়ে বলছেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর। সেখান থেকে করোনা ছড়াবে না। তারা জেনে রাখুন, আল্লাহ এমন কোন প্রতিশ্রুতি দেননি। বরং মসজিদেও মশা কামড়ায়। পবিত্র ক্বাবায়ও দূর্ঘটনায় হাজি মারা যান।
আল জাজিরা টিভির বিগত ১৮ মার্চের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, সেদিন পর্যন্ত মালয়েশিয়াতে যে ৬৭৩ জন লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তার দুই-তৃতীয়াংশ কুয়ালালামপুরের নিকটবর্তী এক মসজিদে আগত তাবলিগ জামাত হতে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
মূল বিষয় হলো জনসমাগম। সেটি মসজিদেই হোক আর খেলার মাঠ বা রাজনৈতিক ময়দানেই হোক। করোনায় আক্রান্ত কারো স্পর্শে আসলেই তাতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।
আলেমগণ যদি সিদ্ধান্ত নেন যে, মসজিদে স্বাভাবিক জামাত হবে, আর হাজার হাজার মানুষ মসজিদে নামায পড়তে যায়। তাদের একজনের যদি করোনা থাকে তাহলে লক্ষ লোকে ছড়াতে সাত দিনের বেশি লাগবে না। আর যদি জানা যায়, মসজিদ হতে লক্ষ লোকে করোনা ছড়িয়েছে, তাহলে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে আমাদের জবাব দিহি করতে হতে পারে। মসজিদ হতে সংক্রমিত হয়ে যদি মানুষ মারা যায়, আর সংখ্যাটি যদি অনেক হয়, ভবিষ্যত প্রজন্ম বলবে, যে মসজিদ হতে ব্যাপকভাবে করোনা ছড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ মারা যায়, সে মসজিদে যেয়ে কী হবে। তারা মসজিদ বিমুখ হয়ে পড়তে পারে। অতীতে গীর্জা নিয়ে এমন হয়েছে। খৃষ্টানদের গীর্জা বিমুখ হওয়ার পেছনে গীর্জার পাদ্রীদের এমন অনেক ভুল সিদ্ধান্ত দায়ী। তাই, বাংলাদেশের আলেমদের প্রতি সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনুরোধ রইল।
করোনা ভাইরাসকে হালকাভাবে নিবেন না, আবেগ দিয়েও দেখবেন না। 

নেককার মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করার ফজিলত

🕳হাসান আল বাসরী [রহিমাহুল্লাহ] সূরা শু'য়ারার অদ্ভুত ব্যাখ্যা করেছেন! বলেছেন, তোমরা পৃথিবীতে ভাল মানুষদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে তৎপর হও, কারন এই সম্পর্কের কারণে হয়ত তোমরা আখিরাতে উপকৃত হতে পারবে।

🗨তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো কিভাবে?

🕳তিনি বললেন যখন জান্নাতিরা জান্নাতে অধিষ্ঠিত হয়ে যাবে তখন তারা পৃথিবীর ঘটনা স্মরণ করবে এবং তাদের পৃথিবীর আল্লাহর পথে চলা(কোনো কারনে শাস্তিতে ধরা পরেছে)বন্ধুদের কথা মনে পড়ে যাবে। তারা বলবে, আমি তো আমার সেই বন্ধুকে জান্নাতে দেখছিনা, কি করেছিল সে?

🕳তখন বলা হবে, সেতো জাহান্নামে। তখন সেই মু'মিন ব্যক্তি আল্লাহর কাছে বলবেন, হে আল্লাহ, আমার বন্ধুকে ছাড়া আমার কাছে জান্নাতের আনন্দ পরিপূর্ণ হচ্ছেনা।

🕳অতঃপর আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা'আলা আদেশ করবেন অমুক ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করাতে।

🕳তার বন্ধু জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেল এই কারনে নয় যে সে তাহাজ্জুদ পড়ত, বা কুরআন পড়ত বা সাদাকাহ করত বা রোজা রাখত, বরং সে মুক্তি পেল কেবলই এই কারণে যে তার বন্ধু তার কথা স্মরণ করেছে।আর আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করেছে! তার জান্নাতী বন্ধুর সম্মানের খাতিরে তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হল।

🕳জাহান্নামিরা তখন অত্যন্ত অবাক হয়ে জানতে চাইবে কি কারনে তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হল, তার বাবা কি শহিদ? তার ভাই কি শহিদ? তার জন্য কি কোন ফেরেশতা বা নবী শাফায়াৎ করেছেন?

🕳বলা হবে না, বরং তার বন্ধু জান্নাতে তার জন্য আল্লাহর কাছে অনুরোধ করেছে।

🕳এই কথা শুনে জাহান্নামিরা আফসোস করে বলবে হায় আজ আমাদের জন্য কোন শাফায়াৎকারি নেই এবং আমাদের কোন সত্যিকারের বন্ধু নেই, যার উল্লেখ আছে এই আয়াতগুলোতে:

💦"আমাদের কোন সুপারিশকারী নেই। আর কোন সহৃদয় বন্ধুও নেই।" [সূরা শু'য়ারা : ১০০-১০১]
.

🕳প্রচুর বন্ধু আমার,ভার্চুয়াল জগতেতো হিসাব নেই!বিশ্বাস করুন বন্ধু থাকা ভালো, কিন্তু এতো বন্ধুর প্রয়োজন নেই। জান্নাতের পথে চলে,কুরআন সুন্নাহ ভালোবাসে এমন দু'চারজন হলেই তো যথেষ্ট যে জান্নাতে যাবার পর আমায় সেখানে না পেলে, খুঁজবে!

🕳সত্যিই কি এমন কেউ আছে, যে জান্নাতে যেয়ে আমায় না পেলে খুঁজবে?

যেসব আমল করলে আল্লাহ খুব দ্রুত তার দোয়া কবুল করে থাকেন


পবিত্রতা অর্জন: পবিত্রতা অর্জনের পর দোয়া করলে আল্লাহতায়ালা সেই দোয়া কবুল করবেন।

বিনয়ের সঙ্গে দোয়া করা: বিনয়ের সঙ্গে দু’হাত তুলে দোয়া করা। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহতায়ালার নিকট হাত তুলে হাতের তালু সামনে রেখে দোয়া কর। হাত উল্টো করো না। দোয়ার শেষে উত্তোলিত হাত মুখমন্ডলে বুলিয়ে নাও।’ -আবু দাউদ

মিনতিভরা কন্ঠে দোয়া করা: মিনতি ও নম্রতার সঙ্গে দোয়া করলে তা ইবাদত হিসেবে গন্য হয়। রাসূলে মকবুল (সা.) বলেছেন, ‘দোয়া সব ইবাদতের মজ্জা ও সারাংশ।’ দাসত্বের পরিচয় প্রদানই ইবাদতের উদ্দেশ্য। বান্দার নিজের দীনতা ও অক্ষমতা বুঝতে পারা এবং আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও অপার মহিমা উপলব্দি করার মধ্যেই দাসত্বের প্রকাশ ঘটে। দোয়ার মাধ্যমে এ দু’টি বিষয়ের পরিচয় পাওয়া যায়। অর্থাৎ নিজের অক্ষমতা ও অসহায়ত্ব এবং আল্লাহর অপ্রতিহত ক্ষমতা, অপার মহিমা ও প্রতাপ অন্তরে স্থান পাওয়া আবশ্যক। দীনতা ও নম্রতা দোয়ার মধ্যে যত অধিক হবে ততই মঙ্গল।

দু’হাত তুলে দোয়া করা: বিনয়, নম্রতা ও দাসত্ব প্রকাশ করার জন্য দোয়ার সময় দু’হাতের তালু আসমানের দিকে রাখতে হবে এবং হাত সম্পূর্ণ সম্প্রসারিত করে দু’হাতের মধ্যে ২/১ আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁক রাখতে হবে। হাত কচলানো, রশি পাকানোর মতো হাতের তালু ঘষাঘষি করা দোয়ার আদবের খেলাপ। মনে রাখবেন, আপনি শাহানশাহেরর দরবারে হাত তুলেছেন, তাই এখানে কোনো ধরনের অমনোযোগিতা কাম্য নয়। এছাড়া দোয়া শেষে দু’হাত তুলে দোয়া করে দোয়া শেষে হাত দু’টি মুখমন্ডলে মুছে নিবে। হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে, ‘যে হাত আল্লাহর দরবারে উত্তোলিত হয়, তা একেবারে শূণ্য অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে তিনি লজ্জাবোধ করেন।’

আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ শরীফসহ দোয়া করা : আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ শরীফসহ দোয়া করা। আল্লাহর প্রশংসা যেমন, ‘আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামিন’ দোয়ার শুরুতে বলা। এছাড়া ইসমে আজমের সহিত দোয়া করা উত্তম। হজরত আসমা বিনতে ইয়াজিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ইসমে আজম এই আয়াতদ্বয়ে রয়েছে-

১. ‘ওয়া ইলাহুকুম ইলাহু ওয়াহিদুন লা ইলাহা ইল্লা হুয়ার রাহমানুর রাহিম।’ -সূরা বাক্বারা : ১৬৩
২. ‘আলীফ লাম মীম। আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম।’ -সূরা আল ইমরান : ১

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদিন রাসূলে কারিম (সা.)-এর নিকট বসেছিলাম। একজন লোক সেখানে নামাজ পড়ছিল। সে তার দোয়ার মধ্যে আরজ করল, হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আমার প্রয়োজন প্রার্থনা করছি এই ওসিলায় যে, প্রশংসা ও গুনকীর্তণ আপনার জন্যই উপযুক্ত। আপনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। আপনি পরম দয়ালু ও অসীম অনুগ্রহদাতা এবং পৃথিবী ও আকাশ মন্ডলীর স্রষ্টা। আমি আপনার কাছেই আপনার অনুগ্রহ চাই। ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যু! ইয়া জালজালালী ওয়াল ইকরাম! রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, এ বান্দা আল্লাহর ইসমে আজমের ওসিলায় দোয়া করেছে। এ ওসিলায় আল্লাহর কাছে দোয়া করলে দোয়া কবুল হয় এবং আল্লাহর কাছে কোনো কিছু চাইলে, আল্লাহ তা দান করেন। -তিরমিজি

হজরত ফুজালা ইবনে উবায়দা (রা.) বর্ননা করেন, রাসূলে কারিম (সা.) এক ব্যক্তিকে দোয়া করতে শুনলেন। সে দোয়ায় আল্লাহপাকের প্রশংসা করল না এবং রাসূল (সা.)-এর ওপর দরুদও পাঠ করল না। এতে রাসূলে আকরাম (সা.) বললেন, লোকটি তড়িঘড়ি করে দোয়া করেছে। তিনি লোকটিকে ডেকে আনলেন এবং তাকে অথবা উপস্থিত লোকদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘যখন তোমাদের কেউ নামাজ পড়ে তখন দোয়া করার পূর্বে তার উচিত আল্লাহতায়ালার প্রশংসা করে নেয়া ও রাসূলের প্রতি দরুদ পাঠ করা। এরপর যা ইচ্ছা তা চাওয়া। -তিরমিজি ও আবু দাউদ

এক হাদিসে এসেছে হজরত রাসূলে মাকবুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দোয়া করার পূর্বে দরুদ শরীফ পড়ে, তার দোয়া অবশ্যই কবুল হয়। মহান আল্লাহতায়ালা অসীম দয়ালু; দোয়ার কিয়দাংশ কবুল করে অপর অংশ কবুল না করা তার স্বভাব নয়। এই হাদিসের সারমর্ম এই যে, দরুদ তিনি অবশ্যই কবুল করে থাকেন, সুতরাং তিনি দরুদ কবুল করে দোয়ার অবশিষ্টাংশ অর্থাৎ প্রার্থনীয় বিষয় অগ্রাহ্য করেন না। শেষ পর্যন্ত উভয় অংশই কবুল করেন।

হজরত আবু সোলায়মান দারানী (রহ.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কোনো দোয়া করে, তার উচিত, প্রথমে দরুদ পড়া এবং দরুদ পড়ে দোয়া শেষ করা। কেননা আল্লাহ উভয় দরুদ কবুল করেন। -কিমিয়ায়ে সাআদাত

কম বয়সে বিয়ে করার উপকারিতা

অল্প বয়সে বিয়ে করার উপকারিতা।
ডাঃ মুহাম্মাদ তালহা
-- --- --- 
অল্প বয়সে বিয়ে হলে মানসিক ও শারীরিক
সমস্যার কথা বলে অল্প বয়সে বিবাহের
অপপ্রচারকারীরা।সরকার খাছ সুন্নত
বাল্যবিবাহবিরোধী আইন করেছে!!
অথচ গবেষনায় এসেছে অল্প বয়সে বিয়ের
মানষিক দিকগত সুবিধা অনেক । যেমন-
১) স্বামী স্ত্রী একেক অপরের জীবন এবং
ব্যক্তিত্ব গড়তে সাহায্য করেন, ফলে
তাদের মাঝে ব্যক্তিত্বের সংঘর্ষ কম হয়।
২) এই বয়সে বিয়ে করলে স্বামী-স্ত্রীর
মাঝে সহজেই বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে এবং এই
বন্ধুত্ব বজায় থাকে সারাজীবন।
৩) হাতে হাত রেখে জীবনের অনেক বড়
কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়ে দুজনকে। ফলে
একটা বোঝাপড়া গড়ে ওঠে তাদের মাঝে।
৪) এই বয়সে পড়াশোনা বা ক্যারিয়ার
নিয়ে অনেকেই চিন্তায় থাকেন, ভাবেন
পাশে প্রেরণা দেবার একজন মানুষ থাকলে
ভালো হলো। বিয়ে করে থাকলে এই
মানুষটি সর্বক্ষণই আপনার পাশে থাকবেন।
৫) কম বয়সে সবাই ই থাকেন বেশ
টানাটানির মধ্যে। বিলাসিতা ছাড়া
এভাবে জীবন শুরু করে একটা সময়ে সচ্ছলতার
মুখ দেখেন দুজনেই। এর ফলে একজনের প্রতি
আরেকজনের আস্থা তৈরি হয়।
৬) আপনার যদি সন্তানের ইচ্ছে থাকে, তবে
অল্প বয়সে সন্তান নেওয়া সুবিধা। কারণ এ
সময়ে শরীর সন্তান ধারণের জন্য উপযুক্ত
থাকে।
৭) কম বয়স থেকেই নিজের জীবন দুজনের
জন্য মানিয়ে নিয়ে তৈরি করলে কখনোই
সমস্যা হয় না দুজনের মাঝে।
৮) কম বয়সে বিয়ে করলে জীবনের বিভিন্ন
বাধা বিপত্তি সামলে একই সাথে কিছু
সাফল্যের স্বাদ নেওয়া যায়। পরে বিয়ে
করলে আর এই সুখটা পাওয়া যায় না।
৯) স্বার্থপর কোনো অভ্যাস গড়ে ওঠে না
দুজনের কারও মাঝেই।
১০) দুজনে একসাথে ভবিষ্যত পরিকল্পনা
করাটা সহজ হয়।
১১) একে অন্যকে জানার সুযোগ পায়,
পরষ্পরের প্রতি মুহব্বত বৃদ্ধি পায় , সহনশীল
হন। পারষ্পরিক সহযোগীতা করার মনোভাব
বৃদ্ধি পায়ঃ এরা সক্রিয় এবং একে অন্যকে
সহযোগিতা করার প্রবনতা বৃদ্ধি পায়।
১২) একসাথে অনেক বছর জীবন কাটানোর
সুযোগ পায়। সন্তান জন্মদানে বেশি সক্ষম
থাকে ।

যারা বাল্যবিবাহের বিরোধীতা করে
তারা মুলত সুন্নতের বিরোধীতা করে ।
কারন অল্প বয়সে হযরত আয়েশা ছিদ্দিকা
রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার শাদী
হয়েছিল।
বাল্য বিবাহ বিরোধীরা চায় যাতে মুসলিম
সমাজ পাশ্চাত্যের মত অনৈতিকতায় ডুবে
যাক। মুসলিম বিশ্বকে কাফিরদের বাল্য
বিবাহ বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র সম্পর্কে
সচেতন হয়ে তীব্র প্রতিবাদ করে এদের
বিষদাত সমুলে উপড়ে ফেলতে হবে এবং
সরকারকে বাধ্য করতে হবে এই কুফরি
অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে।